1
1
“অস্ত্রোপচার করলেই সবাই ডাক্তার হন না। আসল চিকিৎসকের পরিচয় সেই—যিনি অস্ত্রোপচার করে হাত বাদ না দিয়ে মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেন।”এই কথারই বাস্তব রূপ দেখালেন কেপিসি হাসপাতালের ৩২ বছর বয়সী চিকিৎসক Dr. Rupesh Pakrasi।
সুমিত দে, কলকাতা:তমলুকের বাসিন্দা ৯২ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তি বাড়ির ভিতরে একটি চেয়ারের উপর উঠে আলমারি থেকে জিনিস নামাতে গিয়ে আচমকাই পড়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের কাছের অংশ মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়, পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়।
দ্রুত সিদ্ধান্তেই বাঁচল হাত
প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তপাত বন্ধ করা হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা দেরি না করে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে নিয়ে আসেন কলকাতার যাদবপুরস্থিত KPC Hospital & Medical College-এ।
বয়স নয়, ভরসা ছিল দক্ষতায়

হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন—কেসটি অত্যন্ত জটিল। প্রবীণের বয়স ৯২ হওয়ায় অনেক জায়গাতেই এমন অস্ত্রোপচার সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল। এমনকি পরিবারের মনেও ভয় ঢুকেছিল, হয়তো হাত কেটে বাদ দিতে হতে পারে।
কিন্তু সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দায়িত্ব নেন ডা. রূপেশ পাক্রাসি ও তাঁর চিকিৎসক দল। রাতভর টানা বহু ঘণ্টা ধরে চলে জটিল অস্ত্রোপচার। ভাঙা হাড় নিখুঁতভাবে জোড়া লাগানো হয়, পাশাপাশি ছিঁড়ে যাওয়া নার্ভের চিকিৎসাও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
অপারেশনের পর স্বস্তি
দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা সফল হন। বর্তমানে প্রবীণ রোগী ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে। সবচেয়ে বড় স্বস্তি—হাতটি কেটে বাদ দিতে হয়নি। বহুদিনের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে পরিবারের মুখে ফিরেছে প্রশান্তির হাসি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী বললেন
এই বিষয়ে কেপিসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এবং জরুরি বিভাগের প্রধান Dr. Saptarshi Ghosh জানান—
“এমন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন প্রবীণ মানুষের জীবন ও তাঁর হাত রক্ষা করা আমাদের কাছে বড় সাফল্য। কেপিসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে আরও বহু জীবন বাঁচাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পরিবারের কৃতজ্ঞতা
রোগীর পরিবার কৃতজ্ঞতার সঙ্গে হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়,
“এই কঠিন সময়ে চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি হাসপাতালকর্মী যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমাদের কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনন্য উদাহরণ

৯২ বছর বয়সেও এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়া নিঃসন্দেহে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ডা. রূপেশ পাক্রাসি ও তাঁর সম্পূর্ণ টিমের দক্ষতা, সাহস ও মানবিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন রোগীর পরিবারসহ সকলেই।