1
1
সুমিত দে, হালিশহর: বিধানসভা থেকে হালিশহর মহাশ্মশান—পরিবারের একজন সদস্যের মতো প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের পাশে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকের এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক সৌজন্য ও মানবিকতার এক অনন্য নজির রাখলেন তিনি।

রবিবার গভীর রাতে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হন ৭২ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সামাজিক মাধ্যমে গভীর শোকপ্রকাশ করেন।
সোমবার সকালে মুকুল রায়ের মরদেহ বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের মন্ত্রী ও বিধায়করা। বিধানসভা থেকেই শুরু হয় মুকুল রায়ের শেষযাত্রার আনুষ্ঠানিক পর্ব।
এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচরাপাড়ার তাঁর বাসভবন ‘যুগল ভবন’-এ। সেখানেও উপস্থিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মরদেহে মাল্যদান করার পাশাপাশি পিতৃহারা শুভ্রাংশু রায় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ অভিভাবকের মতোই শোকাহত পরিবারকে মানসিকভাবে আগলে রাখেন তৃণমূলের সেনাপতি।

কাঁচরাপাড়া থেকে হালিশহর মহাশ্মশান পর্যন্ত দীর্ঘ পথের শোকমিছিলে শুভ্রাংশু রায়ের পাশে পা মিলিয়ে হাঁটেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতির ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকার এই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। তাঁর প্রয়াণে এক অধ্যায়ের অবসান হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। সেই ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে তাঁর শেষযাত্রায় সামিল হয়ে দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে মানবিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিলেন, তা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।