1
1
অভিমন্যু সেনগুপ্ত, কলকাতা:
এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে গেলেও ম্যাচের শেষে ১-২ হার মানতে হল East Bengal FC-কে। সল্টলেকের যুবভারতীতে ২২ হাজার সমর্থকের সামনে জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন ভেঙে দিল Jamshedpur FC। টানা তিন ম্যাচ জিতে লিগ তালিকার শীর্ষে উঠে গেল জামশেদপুর।
ম্যাচের মোড় ঘোরালেন তালাল
এই ম্যাচে নিঃসন্দেহে সেরা পারফরমার Madih Talal। মাঝমাঠে খেলার ছন্দ, বল বিলি-বণ্টন, আক্রমণ তৈরি—সবেতেই ছিলেন প্রভাবশালী। ম্যাচের শুরুতেই তাঁর পা থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ব্যারেটোর শট গোলরক্ষক গিল রুখে না দিলে ইস্টবেঙ্গল শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে পারত।
৭ মিনিটে Rafael Messi Bouli-র গোল অফসাইডে বাতিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। জিকসন সিংহের দূরপাল্লার শট, মিগুয়েল-বিপিনের যুগলবন্দী—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ায় লাল-হলুদ।
এগিয়ে গিয়েও ধাক্কা
৪০ মিনিটে বিপিনের ক্রস থেকে এডমন্ডের গোলে ১-০ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বিরতির আগে এজ্জেজারির একটি সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে ব্যবধান বাড়তে পারত। সেই সুযোগ হাতছাড়া করাই যেন কাল হল।
দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপায় জামশেদপুর। ৬০ মিনিটে নিকোলার ভাসানো বলে হেড করে সমতা ফেরান ইজে। ম্যাচ তখন সমানে সমান।
শেষ মুহূর্তের ছোবল
৮৭ মিনিটে তালালের অসাধারণ ব্যাকফ্লিক পাস থেকে রেই তাচিকাওয়ার নিখুঁত শট—স্কোরলাইন ১-২। হতভম্ব হয়ে যায় গিল এবং গ্যালারিতে থাকা লাল-হলুদ সমর্থকরা। শেষ মুহূর্তে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
কোথায় পিছিয়ে পড়ল লাল-হলুদ?
তালালের তুলনায় অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন মিগুয়েল ও রশিদরা। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। উল্টোদিকে জামশেদপুর সুযোগ পেলেই আঘাত হেনেছে।
ফলাফল—এগিয়ে থেকেও হার, আর জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন ভঙ্গ। তালালের ‘ব্রাত্য’ হয়ে যাওয়া অতীত যেন এদিন নতুন করে কাঁটার মতো বিঁধল ইস্টবেঙ্গলের হৃদয়ে।