Popular Posts

ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে নজির তৃণমূলের হাত ধরে দেশের প্রথম এলজিবিটিকিউ সাংসদ—নতুন অধ্যায়ের সূচনা

সুমিত দে, কলকাতা:
ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে দেশ পেতে চলেছে প্রথম এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সাংসদ। রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরেই লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে সমান অধিকারের দাবি তুলে আসছে এলজিবিটিকিউ সমাজ। আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব—এই তিন ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে গিয়েছে সম্প্রদায়টি। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকে গণতন্ত্রের পরিণত রূপ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।


তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই সংখ্যালঘু, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে সরব থেকেছে বলে দলের তরফে দাবি করা হয়। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, সমাজের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বার্তা পৌঁছবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সমকামিতাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর ধাপে ধাপে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেলেও সংসদীয় রাজনীতিতে সরাসরি প্রতিনিধিত্বের অভাব ছিল স্পষ্ট। সেই শূন্যস্থান পূরণের পথে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকলে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দাবি-দাওয়া সরাসরি জাতীয় নীতিনির্ধারণের আলোচনায় প্রতিফলিত হবে। সমতা, বৈচিত্র্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নে এটি হতে পারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।


রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা—এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *