1
1
বঙ্গ Live কলকাতা ডেস্ক : ভারতের বিশাখাপত্তনমে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ডুবে যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা। মার্কিন ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় জাহাজটি ডুবে যায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের এখনই দেশে ফেরাতে না দিতে শ্রীলঙ্কাকে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা—এমনই দাবি করেছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের হাতে পাওয়া মার্কিন বিদেশ দফতরের একটি অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কলম্বোতে মার্কিন দূতাবাসের আধিকারিক জেন হাওয়েল শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানিয়েছেন—ডেনা থেকে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের যেন আপাতত ইরানে ফেরানো না হয়।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত নাবিকদের উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আরও একটি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহ্র-কে আশ্রয় দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জাহাজটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে ২০৪ জন নাবিককে উদ্ধার করে কলম্বোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ইরানে ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই সময়েই সামনে আসে রয়টার্সের এই রিপোর্ট।
মার্কিন প্রশাসনের ৬ মার্চ তারিখের একটি নথি উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ডেনা ও বুশেহ্র—দুই জাহাজ থেকেই উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নথিতে ‘বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই নাবিকদের ব্যবহার করে ইরান আমেরিকা-বিরোধী প্রচার চালাতে পারে। তাই শ্রীলঙ্কা যেন তাতে সহযোগিতা না করে।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মার্কিন বিদেশ দফতর কোনও মন্তব্য করেনি। শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নথি অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন মার্কিন আধিকারিক জেন হাওয়েল। তাঁদের জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের এখনই দেশে ফেরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি ইজ়রায়েলি দূতেরা জানতে চান, ওই নাবিকদের সঙ্গে আমেরিকা ইতিমধ্যে কোনও যোগাযোগ করেছে কি না, কিংবা তাঁদের ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে কি না।
যদিও এই প্রসঙ্গে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজ়রায়েলি দূতাবাসও কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
এদিকে গত বুধবার শ্রীলঙ্কার এক মন্ত্রী জানান, ডেনা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি দেশে ফেরানোর জন্য ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। তবে কবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।