1
1
সুমিত দে, কলকাতা:এজেন্সির ব্যবহার করেও বাংলায় রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে এবার রাষ্ট্রপতির ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি—এমনই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi যে সুর চড়িয়েছেন, তাকে ‘বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য’ বলেই দাবি করেছে শাসকদল।
এই ইস্যুতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee–র পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি—কংগ্রেস ও ডিএমকে।
কী ঘটেছিল শিলিগুড়িতে
শনিবার শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি সংস্থার অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপতির সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। বিষয়টি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তারপরই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ
তামিলনাড়ুর শাসক দল Dravida Munnetra Kazhagam (ডিএমকে)-এর মুখপাত্র Saravanan Annadurai প্রশ্ন তোলেন,
“রাষ্ট্রপতি কবে থেকে বাংলায় বিজেপির প্রতিনিধি হয়ে উঠলেন? এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এতে পরিষ্কার বিজেপি কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।”
রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ Sukhendu Sekhar Roy এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা আগে দেখেননি যেখানে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কোনও অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রকাশ্যে সমালোচনা করা হচ্ছে।
তাঁর সেই পোস্ট শেয়ার করে বিজেপির এই কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা Jairam Ramesh।

মমতার পাল্টা জবাব
ঘটনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের একটি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে আগেই রাষ্ট্রপতি সচিবালয়কে লিখিতভাবে এবং ফোনে জানানো হয়েছিল। ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের আধিকারিকরা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাঁদেরও বিষয়টি জানানো হয়। তবুও নির্ধারিত দিনেই কর্মসূচি বজায় রাখা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর পর প্রোটোকল মেনেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। তাই প্রোটোকল ভাঙার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করছে। তাঁর কথায়, “দলীয় স্বার্থে দেশের সর্বোচ্চ পদকে অসম্মান ও অপব্যবহার করা হচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

ভোটের আগে নতুন রাজনৈতিক ইস্যু
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে এই বিতর্ক ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।