Popular Posts

দাসপুরের জনসভায় উন্নয়ন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও কেন্দ্র-বিরোধী ইস্যুতে আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সুমিত দে, পশ্চিম মেদিনীপুর:
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, সামাজিক প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা তুলে ধরেন। বুধবারের এই সভায় দলীয় প্রার্থী আশিস হুদাইতের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একাধিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা দেন।
প্রার্থীকে সমর্থনের আহ্বান
সভায় উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর আশীর্বাদধন্য প্রার্থী আশিস হুদাইত এই মাটির সন্তান এবং একজন দক্ষ সংগঠক। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও বিপুল জনসমাগমকে মানুষের সমর্থনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি করেন, এই আসনে তৃণমূল প্রার্থীর জয় সময়ের অপেক্ষা।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ২০০ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করেছে এবং পলাশপাই ও চন্দ্রেশ্বর খালসহ বিভিন্ন খালে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে কিছু এলাকায় জল জমার সমস্যা থাকলেও পাম্প ও অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দাসপুরে একটি আইটিআই কলেজ স্থাপন করা হয়েছে এবং স্থানীয় স্বর্ণশিল্পীদের জন্য গোল্ড হাব তৈরি হয়েছে, যা শীঘ্রই চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বর্ণ ব্যবসার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন থানার দাবিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে জানান।


রাস্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প
পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পের আওতায় দাসপুর-১ ও ২ ব্লকে ৫০ কোটির বেশি টাকার রাস্তা নির্মাণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কালাচাঁদ সেতু, দুধকুমরা, যশোহর ও কোলাঘাট সেতুর পুনর্নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন।
‘প্রতিজ্ঞা’ ভিত্তিক নির্বাচনী অঙ্গীকার
সভায় দলের ঘোষিত ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা তুলে ধরে তিনি জানান—
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প আজীবন চালু থাকবে,
পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে,
‘দুয়ারে চিকিৎসা’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছবে,
সকলের জন্য পাকা বাড়ি নিশ্চিত করা হবে,
যোগ্য প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সহায়তা না পেলেও রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করবে।


কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা
বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ও অন্যান্য প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। নোটবন্দি, লকডাউন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাগরিকত্ব ও ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর মানুষকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা দুঃখজনক।
সামাজিক প্রকল্পের পরিসংখ্যান
দাসপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান,
১,২৭,৬৭০ জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন,
গত পাঁচ বছরে ৪,৪০,০০০ মানুষ স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় এসেছেন,
প্রতি মাসে ৪,৬৭,০০০ মানুষ খাদ্য সাথী প্রকল্পে রেশন পাচ্ছেন,
বাংলা আবাস যোজনায় ১৩,৯০১ পরিবার উপকৃত হয়েছে,
কন্যাশ্রী প্রকল্পে প্রায় ১,৭৮,০০০ উপভোক্তা রয়েছেন।
রাজনৈতিক বার্তা ও নির্বাচনী আহ্বান
বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তুলে তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দাবি করেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠন নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।
সভা শেষে তিনি বলেন, দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব এবং আশিস হুদাইতকে জয়ী করা মানুষের দায়িত্ব। আগামী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *