1
1
সুমিত দে, জলপাইগুড়ি:
আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ধূপগুড়ির ফণীর মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি অতীতের প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের জন্য একাধিক অঙ্গীকারও তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত জনসাধারণ, দলীয় নেতা ও প্রার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে বিপুল মানুষের উপস্থিতিকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, মানুষ শুধুমাত্র ভাষণ শুনতে নয়, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েই সভায় যোগ দিয়েছেন।
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধূপগুড়িকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়েছে। মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পাঁচতলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষিনির্ভর এলাকার জন্য কিষাণ মাণ্ডি, বানারহাটে দমকল কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, গত ১৪ বছরে রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করেছে এবং আগামী দিনেও সেই ধারা বজায় থাকবে।
বিজেপিকে নিশানা
বক্তব্যে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুত ১৫ লক্ষ টাকা কিংবা বছরে ২ কোটি চাকরির কোনও বাস্তব ফল দেখাতে পারেনি। নোটবন্দি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ও জল জীবন মিশনের তহবিল বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে তিনি স্থানীয় সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং কেন্দ্রকে তহবিল ছাড়ার জন্য কতবার চিঠি দেওয়া হয়েছে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানান।

সামাজিক প্রকল্প নিয়ে বার্তা
সভায় রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফল যাই হোক না কেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন প্রকল্প কখনও বন্ধ করা হয়নি। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের কাজ রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য।
ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকায় সরকারি প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান—
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা: ৮৫,৫০০ জন
স্বাস্থ্য সাথী: ২,৭৭,০৭৩ জন
খাদ্য সাথী (বিনামূল্যে রেশন): ২,৬৭,৯৩৩ জন
বাংলার বাড়ি: ৭,৭১৩ জন
রূপশ্রী: ১৫,৪৬৬ জন
কৃষক বন্ধু: ২৯,২৬৪ জন
যুবসাথী ভাতা: ১৮,৮২৮ জন
এছাড়া রাস্তা নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৩ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি
সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘোষিত ১০টি প্রতিজ্ঞার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মধ্যে রয়েছে—
আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু রাখা

আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানীয় জল
দুয়ারে চিকিৎসা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
কেন্দ্রীয় তহবিল ছাড়াই পাকা বাড়ি প্রদান
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা
ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য
ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানুষের কল্যাণ। বিজেপিকে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও করেন তিনি।
ভোটের আহ্বান
সভা শেষে ধূপগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়কে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে, এই নির্বাচন উন্নয়ন বজায় রাখা নাকি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভোট—সেই সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে।
জনসভায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায় এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।