Popular Posts

পুরুলিয়ায় বিজেপির ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ তত্ত্বে তোপ অভিষেকের, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সাংসদের বিরুদ্ধে

শ্রেয়া সেনগুপ্ত, পুরুলিয়া:
Abhishek Banerjee পুরুলিয়ায় সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুশান্ত মাহাতোর সমর্থনে ঝালদায় সভা করতে গিয়ে তিনি বিজেপির উন্নয়ন দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
সভা থেকে Jyotirmoy Singh Mahato-র নাম উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, গত সাত বছরে এলাকার উন্নয়নের জন্য বিজেপি সাংসদ একটি কাজও করেছেন কি না তা প্রমাণ করতে পারলে তিনি আর তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসবেন না।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, একশো দিনের কাজ, পানীয় জল ও সর্বশিক্ষা মিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে Government of India। তাঁর কথায়, “বিজেপি মানুষের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। কখনও হিন্দু-মুসলমান, আবার কখনও কুড়মি ও আদিবাসীদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা চাই শান্তি ও ঐক্য।”


বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পুরুলিয়ায় আসলে বিজেপির ‘ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার’ চলছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, উপরে Narendra Modi-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার, মাঝে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং নীচে বিজেপির বিধায়করা রয়েছেন। তবে কাজের নিরিখে সবই শূন্য বলেই দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, গত সাত বছরে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো অধিকাংশ সময়ই দিল্লি বা রাঁচিতে থেকেছেন, এলাকার মানুষের জন্য সময় দেননি। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেখাতে পারে গত সাত বছরে তাঁর নেতৃত্বে পুরুলিয়ার কোনও পঞ্চায়েত বা শহরে উন্নয়ন হয়েছে, অথবা ১০ জন মানুষও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, তাহলে আমি আর ভোট চাইতে আসব না।”
সভা থেকে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তাও দেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল ভোট চাইতে এলে তাদের কাছে কাজের রিপোর্ট কার্ড চাইতে হবে। তৃণমূল গত ১৪ বছরে বাঘমুন্ডি ও পুরুলিয়ার জন্য কী কাজ করেছে, তার বিস্তারিত হিসাব তিনি সঙ্গে করে এনেছেন বলেও দাবি করেন।
২০১১ সালের আগে বাঘমুন্ডি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল বলেও উল্লেখ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তখন পুরুলিয়া বা বলরামপুর থেকে Ajodhya Hills পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। এখন রাজ্য সরকারের তৈরি রাস্তার ফলে সেই পথ ২০ থেকে ৫০ মিনিটেই অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে।
২০০৬ সালে ডাউরি খালে Jadavpur University-র চার পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনাও সভায় স্মরণ করেন তিনি। অভিষেক বলেন, সেসময় মৃতদেহ উদ্ধার করতেই পুলিশের একদিন সময় লেগেছিল। বর্তমানে সেই ডাউরি খাল এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি জানান, ঝালদায় ফায়ার স্টেশন, মহকুমা শাসকের অফিস থেকে শুরু করে বাঘমুন্ডিতে পলিটেকনিক কলেজ—এসবই রাজ্যের তৃণমূল সরকারের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই উন্নয়নই মানুষের সামনে তৃণমূল সরকারের কাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *