1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, পাঁশকুড়া:
রাজ্যের ক্ষমতায় আসার আগেই দিল্লিতে থেকে বাংলার মানুষের জন্য একাধিক পরিষেবা চালু করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী Mamata Banerjee। কিন্তু সেই উদ্যোগের সুফল যাতে বাংলার মানুষ না পায়, তা নানাভাবে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার— এমনই অভিযোগ তুললেন তিনি। পূর্ব মেদিনীপুরের Panskura থেকে সেই বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত Ghatal Master Plan ঘিরে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও সরব হলেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি যখন দু’দফায় দেশের রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন বাংলার জন্য একাধিক ট্রেন পরিষেবা চালু করেছিলেন। সেই পরিষেবার সুফল পেয়েছিলেন পাঁশকুড়া ও সংলগ্ন এলাকার মানুষও।

তিনি বলেন, পাঁশকুড়া এবং আশপাশের এলাকায় প্রচুর ফুলচাষ হয়। এখানে অসংখ্য ফুলচাষি রয়েছেন। তাঁদের সুবিধার জন্য তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিলেন। যেমন দিঘা-তমলুক লাইনের উন্নয়ন করা হয়েছিল, তেমনই জগন্নাথধাম পর্যন্ত সংযোগ এবং ফুল ও পানচাষিদের পণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফুলচাষিদের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, ফুলচাষের বিকাশে রাজ্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তার বাস্তবায়নও করেছে। কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, কৃষি যন্ত্রপাতি দেওয়া থেকে শুরু করে ফুল রফতানির জন্য প্যাকেজিং ও পরিবহনের ব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার পাশে থেকেছে।
এরপরই তিনি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। মমতার কথায়, দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য। কারণ প্রতি বছরই এই অঞ্চলের মানুষ ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হন।
তিনি বলেন, “আমি প্রায়ই এখানে আসি। মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখি। জানি কী কষ্টে দিন কাটাতে হয়। এতবার বলার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করে দেয়নি।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র এগিয়ে না এলেও রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাঁশকুড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ বন্যার হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন বলে তিনি দাবি করেন।