Popular Posts

রায়নার শ্যামসুন্দর কলেজ গ্রাউন্ডের জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

শ্রেয়া সেনগুপ্ত, পূর্ব বর্ধমান
* মঞ্চে উপস্থিত সকল প্রার্থী ও জেলার সাংগঠনিক নেতৃত্বকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাটোয়ার প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, আউশগ্রামের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, মন্তেশ্বরের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, সাংসদ শর্মিলা সরকার-সহ সকলকে তিনি অভিনন্দন জানান। এদিনের সভা রায়নার তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দুলুইকে সমর্থন জানাতেই আয়োজিত হয়েছে।
* সকাল থেকেই জনসভাস্থলের ভিড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে মাঠের ছবি পাচ্ছেন তিনি এবং এখনও শ্যামসুন্দর কলেজ গ্রাউন্ড কানায় কানায় পূর্ণ। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মানুষ অপেক্ষা করেছেন। রবিবার হওয়া সত্ত্বেও এত মানুষের উপস্থিতিতে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
* পূর্ব বর্ধমানকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নব জোয়ার যাত্রার সময় মেমারি, খণ্ডঘোষ, রায়না-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনি ঘুরেছেন। মানুষের সঙ্গে থেকে, মাঠে রাত কাটিয়ে যোগ্য পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।


* অতীতের সিপিআই(এম) আমলের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি হিজলনা গ্রাম পঞ্চায়েত ও ২০০৯ সালের মাধবডিহির ঘটনার কথা স্মরণ করেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ের অনেক দুষ্কৃতী এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে এবং তারা আবার সেই অন্ধকার দিন ফিরিয়ে আনতে চাইছে।
* ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৬টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই সমর্থনের জন্য দল ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে জেলার মানুষের কাছে ঋণী।
* রায়না কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দুলুই সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি দু’বারের নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য এবং শ্যামসুন্দর, পলাশন ও সেহরা বাজার এলাকায় উন্নয়নের কাজ করেছেন। তিনি বিএ পাশ এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে স্নাতক ডিগ্রিধারী। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ পাত্রকে “অপরিচিত মুখ” বলেও কটাক্ষ করেন।
* কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজ ও জল জীবন মিশনের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি SIR-এর মতো জনবিরোধী সিদ্ধান্তের অভিযোগও তোলেন তিনি।
* রায়না এলাকায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নের উল্লেখ করে তিনি জানান, অধিকাংশ গ্রামে কংক্রিট রাস্তা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় সব কৃষকই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষকদের জন্য শস্য বিমা ও ক্ষেতমজুরদের বছরে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।


* স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী বসু, বটুকেশ্বর দত্ত ও রাসবিহারী ঘোষের পৈতৃক ভিটে সংরক্ষণে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ওয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতে ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গের আদলে একটি স্মারক তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান।
* অবকাঠামো উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গোটান থেকে কামারহাটি পর্যন্ত ১০ কিমি রাস্তা তৈরি হয়েছে। গোটানে সুকুমার সেনের নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। রায়না ১ নম্বর ব্লকে ৩২টি দোকান নিয়ে কিষাণ মান্ডি তৈরি হয়েছে। মান্দারপুরে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনসহ বিভিন্ন স্কুলে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে।
* প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছরের কাজের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি চাইলে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক, তিনিও রাজ্যের উন্নয়নের হিসাব নিয়ে আসবেন।
* গোবিন্দভোগ চাল রফতানিতে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে এলাকার বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে রায়নায় একটি হিমঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
* নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল, দুধ, চা পাতা-সহ একাধিক জিনিসের দাম গত কয়েক বছরে বহু গুণ বেড়েছে।


* আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই লড়াই শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের জন্য নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যও। বিজেপি আবাসন প্রকল্পের টাকা দেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে গরিব মানুষের জন্য কোনও টাকা দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
* তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারের ১০টি প্রতিজ্ঞার মধ্যে পাঁচটি উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, প্রতিটি পরিবারে পানীয় জল, ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির, প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা এবং আবাসনের জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সহায়তা।
* রায়না কেন্দ্রে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে ১৩,৯০০ জন আবাসনের টাকা পেয়েছেন, ৯১ হাজার মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, ৬৬ হাজার কৃষক ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে উপকৃত এবং ১৯ হাজার যুবক ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
* কেন্দ্র গ্রাম সড়ক যোজনা বন্ধ করলেও রাজ্য সরকার ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে গত তিন বছরে ২০৯ কিমি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করেছে বলেও জানান তিনি।


* বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৫ লক্ষ টাকা ও বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
* রায়না কেন্দ্রে গত নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান ১৮ হাজার থেকে ২০২৪ সালে ৪৩ হাজার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সেই ব্যবধান ৫০ হাজারের বেশি হওয়া উচিত।
* দলকে দুর্বল করার জন্য কিছু মানুষ বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছে বলে দাবি করেন।
* নোটবন্দি, SIR ও রান্নার গ্যাসের লাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে মানুষ গণতান্ত্রিক জবাব দেবে।
* রায়নার দুটি প্রধান দাবি—একটি হিমঘর এবং একটি দমকল কেন্দ্র—পূরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার চতুর্থবার গঠিত হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *