1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা:
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। সকাল প্রায় পৌনে ১১টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রাকে ঘিরে শুরু থেকেই উৎসাহ-উন্মাদনায় ভরে ওঠে গোটা এলাকা। তাঁর সঙ্গে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিশাল মিছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী Firhad Hakim। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা সন্দীপ বক্সী-সহ দলের একাধিক শীর্ষ ও স্থানীয় নেতা-কর্মী। দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মিছিলের পথ।
মিছিলকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কড়া। ভিড় সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। তবু মুখ্যমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখেন। পদযাত্রার সময় মুখ্যমন্ত্রী জনতার উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানান।

মিছিলের মধ্যে বারবার ধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা কর্মী ও সমর্থকেরা শঙ্খ বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ফলে গোটা পদযাত্রা কার্যত উৎসবের আবহে পরিণত হয়।
আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন দফতরের তরফে তাঁর মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আগেই তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছিল, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বহুত্ববাদী বা ‘কসমোপলিটান’ চরিত্রকে সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকা সাজানো হবে। সেই ভাবনারই প্রতিফলন দেখা যায় প্রস্তাবকদের তালিকায়। ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রেখে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন একাধিক ব্যক্তি।
প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী Koel Mallick-এর স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাতেই এই ধরনের প্রস্তাবকের তালিকা বেছে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নকে ঘিরে তাই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই নয়, সংগঠনের স্তরেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে তৃণমূল শিবিরে।
ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে ভবানীপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনাকে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখছে।