1
1
সুমিত দে,কলকাতা: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সমবেত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা সংশোধন, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তিনি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেন।
ভোটাধিকার ইস্যুতে সরব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, হিন্দু ও মুসলিম— উভয় সম্প্রদায়ের ভোটারদের নামই নির্বিচারে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের পর ঠিকানা পরিবর্তনের মতো স্বাভাবিক বিষয়কেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন জিততে না পেরে বিজেপি প্রশাসনিক সংস্থা ও বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁদের একমাত্র দাবি বলেও জানান তৃণমূল নেত্রী।

নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটার বাদ দেওয়া এবং ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গণনার দিন ফল প্রকাশের ক্রম নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানান দলীয় কর্মীদের।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনও প্রতিক্রিয়া তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায়নি।
মূল্যবৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা
রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে রয়েছেন, অথচ কেন্দ্র ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করছে।
রাজ্যপাল পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ
সাম্প্রতিক রাজ্যপাল পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটের আগে প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং বিষয়টি সামনে আনার আশ্বাস দেন তিনি।

বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
বিজেপিকে উদ্দেশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে জনগণের সমর্থন না থাকায় বিরোধী দল কেন্দ্রীয় সংস্থার উপর নির্ভর করছে। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে এর জবাব দেবে।
ঐক্যের বার্তা
ভাষণের শেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে সকল সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে এবং যারা ভারতে বসবাস করছেন, তারা সবাই দেশের নাগরিক।
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে দেওয়া এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।