Popular Posts

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় ট্রাম্প-শুল্কে কাটছাঁট—তবু আগে কেন মোদির সই? প্রশ্নে তপ্ত রাজনীতি

সুমিত দে,যুক্তরাষ্ট্র:মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর শুল্ক নীতিতে কার্যত সপাটে চড় মারল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই রায়ের পরই সমস্ত দেশের ক্ষেত্রে একমাত্রা ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করতে বাধ্য হন তিনি। ফলে ভারতের উপর চাপানো ১৮ শতাংশ শুল্ক কমে দাঁড়াল ১০ শতাংশে।
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন—
যখন সুপ্রিম কোর্টের রায় আসন্ন ছিল, তখন কেন তড়িঘড়ি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? শনিবার শুল্ক কমার ঘোষণার পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত প্রায় এক মাস ধরে ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় করেছে আমেরিকা। এখন আদালতের নির্দেশে সেই হার কমলেও, অতিরিক্ত যে শুল্ক ইতিমধ্যেই ভারত দিয়েছে—তা ফেরৎ পাওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ট্রাম্প নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, আগে আদায় করা বাড়তি শুল্ক ফেরৎ দেওয়া হবে না। টাকা ফেরৎ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা সংস্থাকে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।
আদালতের রায়ের পর মার্কিন শিল্পপতি ও শুল্কবিরোধী রাজ্যগুলিতে স্বস্তির হাওয়া বইলেও, ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট “অত্যন্ত নির্বোধের মতো” রায় দিয়েছে এবং দেশের আয় বাড়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। সেই সঙ্গে হোয়াইট হাউস থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়—১০ শতাংশ শুল্ক আপাতত সাময়িক, ভবিষ্যতে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবারও পদক্ষেপ করতে পারেন ট্রাম্প।
ভারতের ক্ষেত্রে আগে ৫০ শতাংশ শুল্কের আশঙ্কা থাকলেও তা ১৮ শতাংশে নামায় স্বস্তি মিলেছিল। কিন্তু এখন ১০ শতাংশে নামলেও, অতিরিক্ত শুল্কের ক্ষতিপূরণ না মেলায় ভারতের শিল্পমহলে বিশেষ খুশির বাতাবরণ নেই। উল্টে এই সময়ের মধ্যে হওয়া লোকসান গুনতে হবে ভারতীয় শিল্প উদ্যোগগুলিকেই।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য,
“ভারতের বিদেশনীতি কি এতটাই অন্তঃসারশূন্য যে একপেশে বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে হল? কোন চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এই চুক্তিতে জড়ালেন?”
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুল্ক কমলেও, আগে কেন তড়িঘড়ি চুক্তিতে সই—এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এখনও মেলেনি। আর সেই উত্তর না মিললে, ট্রাম্প-শুল্ক ও মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *