1
1
সুমিত দে, কলকাতা:কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আমলে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভায় কেন্দ্রের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সরকারি তথ্যেই উঠে এসেছে—স্নাতক ও স্নাতকোত্তরদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মহীন।
চলতি সংসদ অধিবেশনে কংগ্রেস সাংসদ কে. বিষ্ণু প্রসাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের তরফে যে তথ্য পেশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সর্বাধিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৫.৯ শতাংশ হলেও স্নাতকোত্তরদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.২ শতাংশে। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরেও প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন কাজ পাচ্ছেন না।
শুধু উচ্চশিক্ষিতরাই নন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণদের মধ্যেও কর্মসংস্থানের সংকট স্পষ্ট। শহরাঞ্চলে এই সমস্যার প্রকোপ গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের যুবকদের মধ্যে মিলিয়ে প্রায় ১৯.২ শতাংশ বেকার বলে কেন্দ্রীয় তথ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রামীণ ভারতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশ বলে জানানো হলেও, বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি—সামগ্রিক গড়ের আড়ালে শিক্ষিত বেকারত্বের প্রকৃত সংকট চাপা পড়ে যাচ্ছে। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া’ সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বছরে দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নীতির অভাবই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব তথ্যই দেশের শিক্ষিত যুবসমাজের সামনে কর্মসংস্থানের কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে।