Popular Posts

রাত নয়, এখন যে কোনো সময়—কলকাতা পুলিশের নাকা চেকিংয়ে অপরাধীদের জন্য কড়া বার্তা

সুমিত দে, কলকাতা:শহরতলি থেকে শুরু করে মহানগর কলকাতা—রাত নামলেই এক সময় নির্দিষ্ট ঘড়ি ধরে নাকা চেকিং ছিল চেনা ছবি। সাধারণত রাত দশটার পর থেকেই শুরু হতো পুলিশি তল্লাশি। দুই চাকা থেকে চার চাকা—মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো হচ্ছে কি না, সেটাই ছিল মূল নজরে। পাশাপাশি রাতের ফাঁকা রাস্তা ও কম যানবাহনের সুযোগ নিয়ে ভিন রাজ্য থেকে এই রাজ্যে কোনও অবৈধ জিনিসপত্র প্রবেশ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হতো।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের এই নাকা চেকিং ও তল্লাশির মাধ্যমেই ভিন রাজ্য থেকে এই রাজ্যে একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, নিষিদ্ধ সামগ্রী ও নানা বেআইনি জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছে, অপরাধীরা রাতের অন্ধকারকেই নিজেদের সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। সেই কারণেই আরও কঠোর ও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে পুলিশি নজরদারি।
কিন্তু সময় বদলেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি রদবদলের পর আইন-শৃঙ্খলায় এসেছে নতুন গতি। কলকাতা পুলিশের নগরপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনমুখী ও কড়া সিদ্ধান্তে নজর কেড়েছেন দক্ষ আইপিএস আধিকারিক সুপ্রতিম সরকার।
প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য মানবিক উদ্যোগ
‘প্রণাম’ প্রকল্পের পর কলকাতা পুলিশের আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত—শহরের প্রতিটি থানায় বিশেষ ঢালু পথ বা র‍্যাম্প নির্মাণ। প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের থানায় ঢোকা-বেরোনোর সময় যাতে সিঁড়ির কারণে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। মানবিকতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই এখন কলকাতা পুলিশের নতুন পরিচয়।


রাস্তায় থাকবেন শীর্ষ আধিকারিকরাও
শুধু নিচুতলার পুলিশ নয়, ছোট রাস্তা থেকে বড় মোড়—সব জায়গাতেই যেন সাধারণ মানুষ দেখতে পান উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতি। এতে পুলিশের উপর মানুষের আস্থা বাড়বে, সাহস পাবে সাধারণ নাগরিক—এই বিশ্বাস থেকেই নেওয়া হয়েছে একাধিক অভিনব উদ্যোগ।
যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় নাকা চেকিং
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—এখন আর নির্দিষ্ট রাত দশটার অপেক্ষা নয়। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত—যে কোনো সময় কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের উপস্থিতিতে চলবে নাকা চেকিং।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ভিন রাজ্য থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বা বেআইনি সামগ্রী এই রাজ্যে ঢুকছে কি না, সব ধরনের অপরাধ দমনে এই নতুন কৌশল কার্যকর ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
‘সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’—জীবনের জন্য বার্তা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বার্তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—
হেলমেট পরুন, সিটবেল্ট ব্যবহার করুন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না। গাড়ি আস্তে চালান, জীবন বাঁচান। মনে রাখবেন, আপনার জন্য বাড়িতে কিংবা ফোনের ওপারে কেউ অপেক্ষা করে আছেন।
ধর্মতলায় কড়া নজরদারি


শুক্রবার সন্ধ্যা ছ’টার সময় ব্যস্ততম ধর্মতলা চত্বরে কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ডিভিশনের অধীনে হেয়ার স্ট্রিট থানা-র উদ্যোগে চলে নাকা চেকিং। অ্যাডিশনাল ওসি শ্রাবন্তী ঘোষের নেতৃত্বে সমস্ত ধরনের গাড়ির তল্লাশি হয়। গাড়ির ডিকি খুলে খতিয়ে দেখা হয় ভিন রাজ্য থেকে কোনও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বা নিষিদ্ধ সামগ্রী শহরে প্রবেশ করেছে কি না। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের মাধ্যমে বাইক আরোহীদের পরীক্ষা করা হয় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন কি না।
এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট থেকে শুরু করে ট্রাফিক কনস্টেবলরাও।
কঠোরতা, মানবিকতা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কলকাতা পুলিশ এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আর নাগরিকের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *