1
1
সুমিত দে, কলকাতা: সারা বাংলা জুড়ে একের পর এক BLO সরকারি কর্মীদের মৃত্যু নিয়ে যখন আতঙ্ক, ক্ষোভ ও গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে কার্যত বিস্ফোরক পরিস্থিতি সৃষ্টি হল। দায়িত্বের চাপে মৃত্যুর মুখে পড়া কর্মীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামলেন বহু আন্দোলনকারী—নারী, পুরুষ, যুবক, প্রবীণ সকলেই।
এই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন বি এল ও রক্ষা কমিটির মঞ্চের সদস্য মধুমিতা মন্ডল। তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও সাধারণ মানুষ। আন্দোলনকারীদের একটাই স্পষ্ট দাবি—একজনও ন্যায্য ভোটারকে বঞ্চিত করা যাবে না, একজনও BLO কর্মীর জীবনকে তুচ্ছ করে দেখা চলবে না।
প্রতিবাদ ঠেকাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয় লোহার বড় বড় গার্ডরেল। কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করেই গার্ডরেলের উপর উঠে দাঁড়ান আন্দোলনকারীরা। একের পর এক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থামানো যাবে না।
এই আন্দোলনের মধ্যেই সামনে আসে এক শক্তিশালী ও প্রতীকী দৃশ্য—
গলায় বিশাল আকারের সাপ, তবুও মুখে এক ফোঁটা ভয় নেই।

এই ছবি কেবল একজনের সাহসের নয়, এটি গোটা আন্দোলনের মনোবলের প্রতিচ্ছবি। যাঁর গলায় সাপ দেখা যাচ্ছে, তিনি একা নন—তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক আন্দোলনকারী একই দৃঢ়তা ও সাহস নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিজেপির আঙুলে হেলানোতে মুখ্য নির্বাচন কমিশন চলছে, আর তার সরাসরি ফল ভোগ করছেন মাঠে কাজ করা BLO কর্মীরা। অতিরিক্ত চাপ, অমানবিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছেন তাঁরা। এই মৃত্যু কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের।
প্রতিবাদস্থলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধুমিতা মন্ডল স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আজ BLO মরছে, কাল আরও মরবে—যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশন জবাবদিহি না করে। আমরা কোনও অন্যায় মেনে নেব না।”
যাঁর গলায় আজ সাপ দেখা যাচ্ছে, তিনি প্রতীক। তাঁর সঙ্গে দাঁড়ানো প্রত্যেক আন্দোলনকারীই একই প্রশ্ন তুলেছেন—
গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জীবন কি এতটাই তুচ্ছ?
এই আন্দোলন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—
ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব চাপানো যাবে না,
লোহার গার্ডরেল দিয়ে ন্যায়ের দাবি আটকানো যাবে না।
BLO মৃত্যুর দায়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জবাব চাই—এই দাবি নিয়েই আন্দোলন চলবে, আরও তীব্র হবে।