1
1
সুমিত দে, কাশ্মীর:পায়ে গুলি লেগেছে। তবু এক মুহূর্তের জন্যও দমে যায়নি সে। সামনে এগিয়ে চলেছে দৃঢ় পায়ে, চোখে শুধু কর্তব্যের লক্ষ্য। সেই পথ ধরেই জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় পৌঁছে যায় ভারতীয় সেনা। ফল—খতম তিন সন্ত্রাসী। এই অভিযানের নীরব নায়ক সেনাবাহিনীর সারমেয় ‘টাইসন’।
জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলার দুর্গম ছত্রু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের খোঁজ চলছিল। ঠিক কোথায় তারা লুকিয়ে আছে, সে তথ্য ছিল অধরা। সেই সময়ই অভিযানে নামানো হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্পেশ্যাল ফোর্সে নিযুক্ত জার্মান শেফার্ড ‘টাইসন’-কে।
টাইসন সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় গভীর জঙ্গলের মধ্যে। জঙ্গিদের আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সেই মুহূর্তে জঙ্গিদের ছোড়া একটি গুলি এসে লাগে টাইসনের পায়ে। তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও সে থামেনি। দায়িত্ব ভুলে যায়নি এক মুহূর্তের জন্যও। শেষ পর্যন্ত জঙ্গিদের ঘাঁটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করেই থামে তার অগ্রযাত্রা।
টাইসনের দেখানো পথ ধরেই সেনা অভিযান সফল হয়। রবিবারের সেই অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়। সেনা সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ছিল জইশ-ই-মহম্মদ-এর কুখ্যাত কমান্ডার সইফুল্লা। সে ভারতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত ছিল এবং গত দু’বছর ধরে ওই এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।

অভিযান শেষে আহত টাইসনকে দ্রুত বিমানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছে বলে জানিয়েছেন সেনাকর্তারা।
গত বছরের নভেম্বর থেকেই কিশ্তওয়ার এলাকায় ‘অপারেশন ছত্রু’ শুরু করে সেনা। এই অঞ্চলের জঙ্গল মাঝেমধ্যেই জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। রবিবারও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নামে সেনা ও রাজ্য পুলিশ। আর সেই অভিযানের মোড় ঘুরিয়ে দেয় চারপেয়ে এই সাহসী যোদ্ধা।
এই প্রথম নয়—এর আগেও একাধিক অভিযানে সেনা কুকুরদের বীরত্ব দেখেছে দেশ। ২০২৪ সালে ‘ফ্যান্টম’ নামে এক সারমেয় জঙ্গি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, যদিও সে অভিযানে শহিদ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ইতিহাস লিখল ‘টাইসন’।
নীরবে কাজ করে যাওয়া এই চারপেয়ে সৈনিকরা হয়তো কথা বলতে পারে না, কিন্তু দেশের নিরাপত্তায় তাদের অবদান শব্দের ঊর্ধ্বে। পায়ে গুলি লেগেও যে থামে না—সে শুধু কুকুর নয়, সে এক বীর সেনা।