1
1
সুমিত দে, রাজস্থান: ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’—প্রতিদিন এই স্লোগানই দেশবাসীকে শোনান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বাস্তবে সেই বার্তার কী অর্থ, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল রাজস্থানের এক বিজেপি নেতা। বিজেপি শাসিত রাজস্থানে ধর্ম দেখে কম্বল বিলির অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুখবীর সিং জৌনপুরিয়া।
একটি অনুষ্ঠানে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় এক মহিলা কম্বল চাইলে প্রথমেই তাঁর নাম জানতে চান ওই বিজেপি নেতা। নাম শুনেই জানিয়ে দেন—তাঁকে কম্বল দেওয়া যাবে না। কারণ, তাঁর ধর্মের মানুষ নাকি নরেন্দ্র মোদির ভোটার নন! এখানেই থামেননি তিনি। ওই ধর্মের সব মহিলাকে আলাদা করে এক পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন এবং বাকিদের হাতে নিজে হাতে কম্বল তুলে দেন।
“প্রয়োজন নেই” মানবিকতার চূড়ান্ত অপমান
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে অনুষ্ঠান শেষে। আয়োজকেরা জানতে চান, অবশিষ্ট কম্বলগুলি ওই বঞ্চিত মহিলাদের দেওয়া হবে কি না। জবাবে প্রাক্তন সাংসদের স্পষ্ট উত্তর—“কোনও প্রয়োজন নেই”।

স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করলে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আর কোনও তর্ক সহ্য করা হবে না।
তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বক্তব্য, একদিকে মুখে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’, অন্যদিকে ধর্ম ও ভোটের ভিত্তিতে পরিষেবা বণ্টন—এটাই বিজেপির আসল চরিত্র।
তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়,
বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করছে
উন্নয়ন ও মানবিকতাও তাদের কাছে ভোটের অঙ্ক
বিজেপির সভা ভুয়ো সম্প্রীতিতে মোড়া, ভিতরে জমে আছে ঘৃণার বিষ
নতুন ভারতের ছবি?
এই ঘটনাকে সামনে রেখে প্রশ্ন উঠছে—
এটাই কি বিজেপির ‘নতুন ভারত’?
যেখানে শীতবস্ত্রও পেতে হলে ধর্ম আর ভোটার পরিচয় দেখাতে হবে?
‘সবকা সাথ’ শুধু মঞ্চের স্লোগান, আর বাস্তবে বিজেপির রাজনীতি নিষ্ঠুর, সাম্প্রদায়িক ও হৃদয়হীন—এই অভিযোগেই এখন উত্তাল রাজনীতি।