1
1
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া:আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনেই বাঁকুড়ার ইন্দাসে শিক্ষাঙ্গনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন শিক্ষকরা। কুশমুড়ি হাই স্কুলে ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের সামনে শিক্ষক গোলকবিহারী ব্যানার্জীকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে ইন্দাসের বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার পঃবঃ তৃণমূল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশাল মহামিছিল।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫০০-রও বেশি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক–শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী এই প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান।
নেতৃত্বে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব
মিছিলের নেতৃত্ব দেন পঃবঃ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতম কুমার হালদার। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান বিক্রমজিৎ চ্যাটার্জী, প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ খাঁ।
এছাড়াও ছিলেন তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি গোরাচাঁদ কান্ত ও প্রান্তিক মণ্ডল, তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি স্বাতী ব্যানার্জী ও অনীত কুমার ভট্টাচার্য্য, ইন্দাস ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ হামিদ-সহ দুই সাংগঠনিক জেলার শিক্ষক সংগঠনের বিভিন্ন ব্লক কনভেনর ও নেতৃত্ব।
“অপমানের শাস্তি চাই, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই”

মহামিছিল থেকে বজ্রকণ্ঠে ওঠে স্লোগান—
“শিক্ষক অপমানের দায়ে উদ্ধত বিজেপি বিধায়কের উপযুক্ত শাস্তি চাই”,
“প্রকাশ্যে শিক্ষক গোলকবিহারী ব্যানার্জীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে”।
প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়।
বটতলা থেকে বিডিও অফিস
ইন্দাসের বটতলা–ঈদগাহ মোড় থেকে শুরু হওয়া মহামিছিল দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করে ইন্দাস বিডিও অফিসের মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বাংলার শিক্ষায় উন্নয়ন বনাম বিজেপির আক্রমণ
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিক্রমজিৎ চ্যাটার্জী বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।
রাজ্য সভাপতি প্রীতম কুমার হালদার স্পষ্ট করে বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে জামা, জুতো, পোশাক, বই–খাতা থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, তরুণের স্বপ্ন, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড—এই সমস্ত প্রকল্প দেশের অন্য কোনও রাজ্যে নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি পরিকল্পিতভাবে বাংলার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দ্বারা বাংলার মনীষীদের অবমাননা, ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিদের উপর আক্রমণ—সব মিলিয়ে বিজেপির মনোভাব স্পষ্ট।
হুঁশিয়ারি
মহামিছিল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—
বাংলার যে প্রান্তেই হোক, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের উপর আক্রমণ হলে পঃবঃ তৃণমূল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি আন্দোলনে নামবে।
ইন্দাসের রাজপথে এদিনের মহামিছিল শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং শিক্ষকের সম্মান ও বাংলার শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার এক দৃপ্ত অঙ্গীকার হয়ে