Popular Posts

সংবিধান মানেননি ইউনূস, আমাকে ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল — বিস্ফোরক অভিযোগ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদন,বাংলাদেশ
ঢাকার রাজনীতিতে প্রবল ঝড় তুলল রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর বিস্ফোরক বক্তব্য। দৈনিক কালের কণ্ঠ–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন মহম্মদ ইউনূস বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন এবং কার্যত তাঁকে ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির দাবি, ওই ১৮ মাস ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সময়—যেখানে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করার পাশাপাশি তাঁকে পদচ্যুত করার উদ্দেশ্যে একটি সংগঠিত প্রচারণাও চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
“অপ্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ” ও সাংবিধানিক বিতর্ক
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূস আমলে জারি হওয়া একাধিক অধ্যাদেশ ছিল সম্পূর্ণ “অপ্রয়োজনীয়” এবং অনেক ক্ষেত্রেই তার কোনও সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি—যা নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক শীর্ষ মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।


বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনির্বাচিত প্রশাসন ভোটের ঠিক আগে দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলে তা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ার পাশাপাশি আইনি বিতর্কও ডেকে আনে।
২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব নেন। সেই সময়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে বিরোধী দলগুলির একাংশ প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক পালাবদল ও নতুন সমীকরণ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁকে ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে গত ৩৫ বছরে প্রথমবার বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল।
নির্বাচনের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।


ভবিষ্যতের ইঙ্গিত কী?
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য শুধু অতীত প্রশাসনের সমালোচনাই নয়—বরং ভবিষ্যতে অধ্যাদেশের বৈধতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমা ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঢাকার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
ইউনূস আমলের সিদ্ধান্তগুলি কি এবার পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়তে চলেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *