1
1
সুমিত দে,নয়াদিল্লি:মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে এবার কুয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এল। ড্রোন হামলার জেরে কুয়েতের একটি গগনচুম্বী ভবনে ভয়ঙ্কর আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিশাল হাইরাইজ ভবনটি নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা আকাশ।
প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, ড্রোন আছড়ে পড়ার পরই ওই ভবনে আগুন ধরে যায়। ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
ভবনটিতে কী ছিল?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, কুয়েতের ওই ভবনে মার্কিন সামরিক আধিকারিকদের একটি অস্থায়ী দফতর বা আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। সেই কারণেই ভবনটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে হামলার সময় সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয় সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত
এই ঘটনার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।
তেহরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। অন্যদিকে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে খবর।
কুয়েতের বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানির ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করেও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের দিকেও একাধিক ড্রোন ছোড়া হয়। তবে সেগুলির অনেকগুলোই আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
এই সংঘাতের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ইরানের লক্ষ্য কোনও দেশকে আক্রমণ করা নয়। তবে অন্য দেশ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কড়া ভাষায় ইরানের সমালোচনা করে আরও জোরালো সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সংঘাত থামার ইঙ্গিত নেই
রবিবারও তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। সেখানে সরকারি ভবন ও তেলের ভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সংঘাতের দ্রুত অবসান না হলে গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।