Popular Posts

১০ বছরে সংসদ মুলতুবি হয়ে ক্ষতি ৩,৩০০ কোটি, স্পিকার অনাস্থা বিতর্কে তথ্য পেশ সায়নী ঘোষের

বঙ্গLive কলকাতা ডেস্ক: সংসদ বারবার মুলতুবি হওয়ায় গত এক দশকে জনগণের করের প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ Saayoni Ghosh। লোকসভার স্পিকার Om Birla-র বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে সংসদ পরিচালনায় ‘বুলডোজার নীতি’ চালাচ্ছে।
বুধবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সায়নী বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী মতকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে বারবার বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে এবং তাঁদের আলোচনার দাবি খারিজ করা হচ্ছে। এর ফলে সংসদ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে।
সংসদের অধিবেশন চলার সময়ও কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। সায়নীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,
২০০৯-২০১৪ সালে ১৫তম লোকসভা আমলে মোট ৩৫৬ দিন সংসদ চলেছিল, বছরে গড়ে ৬১ দিন।
২০১৪-২০১৯ সময়কালে তা কমে ২৭৪ দিনে দাঁড়ায়, বছরে গড়ে ৫৫ দিন।
এছাড়া ২০২৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে নির্ধারিত ১২০ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩৭ ঘণ্টা লোকসভা এবং ৩৭ ঘণ্টা রাজ্যসভা চলেছে বলেও জানান তিনি।
সায়নীর দাবি, সংসদ পরিচালনায় প্রতি মিনিটে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বারবার মুলতুবি হওয়ায় ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত প্রায় ২২০০ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে, যার ফলে মোট ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা।


স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, স্পিকারের দায়িত্ব সংসদ সচল রাখা এবং বিরোধীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনেই এই পদ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সায়নী আরও দাবি করেন, সংসদের বাইরে কেন্দ্রের নীতির প্রতিবাদ করলে যেমন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ব্যবহার করা হয়, তেমনই সংসদের ভেতরেও বিরোধীদের সাসপেনশনের মাধ্যমে চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একাধিক বিরোধী সাংসদ সাসপেন্ড হয়ে সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে বিক্ষোভে সামিল রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *