Popular Posts

সুপ্রিম কোর্টে ‘বাংলার জয়’ দাবি তৃণমূলের, ধর্নামঞ্চ থেকে লড়াইয়ের বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সুমিত দে,কলকাতা: এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে ‘বাংলার জয়’-এর বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যে সমস্ত দাবি তুলেছিল, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেগুলিকেই মান্যতা দিয়েছে। তাঁর কথায়, এই জয় বাংলার মানুষ, মা-মাটি-মানুষ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের জয়।


ধর্নামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, একতরফাভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের আপিল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, দলের আইনজীবীরা আদালতে এই বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
অভিষেকের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করেছে এবং যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাঁদের পুনরায় আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি-সহ প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে অ্যাপিল ট্রাইবুন্যাল গঠনের কথাও বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


এই রায়কে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “এই জয় বাংলার জয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথ দেখিয়েছেন, তৃণমূলের কর্মীরা রাস্তায় নেমে লড়াই করেছেন। আমরা মাঠে, সংসদে এবং আদালতে—তিন জায়গাতেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার মতো কাজ দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট বাংলার বিষয়টিকে ‘বিশেষ মামলা’ হিসেবে দেখবে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকবে বলেও জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, দেশের শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেয়নি, যা বিরোধীদের আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করেছে বলে তাঁর দাবি।


বক্তব্যের শেষে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি ধর্না প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তিনি বলেন, বাংলার ১০ কোটি মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থ থাকা জরুরি এবং বাকি লড়াই দল সামলে নেবে। অভিষেকের অনুরোধ মেনে আপাতত ধর্মতলার ধর্না প্রত্যাহার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *