1
1
প্রতিবেদন: বঙ্গ LIVE কলকাতা: এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে যখন প্রতিবাদ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময় সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কাটানোর বদলে ঘোলা জলে মাছ ধরার মতো সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে সেই সাংবাদিক বৈঠকে মূল প্রশ্নগুলোর কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলেই অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বঙ্গ LIVE কলকাতা–র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বঙ্গ LIVE কলকাতা-র পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সংশয় তুলে ধরা হলে, অভিযোগ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার বারবার সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গে কবে নির্বাচন হবে, কত দফায় ভোট গ্রহণ হবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোরও নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি জ্ঞানেশ কুমার।

তৃণমূল মুখপাত্র তথা যুবনেতা ঋজু দত্তও বিষয়টি সামনে এনে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের নামের পাশে কেন ‘বিচারাধীন’ লেখা হয়েছে—এই প্রশ্নেরও কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রায় ৬২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, তারা আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না—সেই বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
বঙ্গ LIVE কলকাতা আরও প্রশ্ন তোলে, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দাবি করা হলেও নির্বাচন কমিশনের কাছে সেই সংক্রান্ত কোনও স্বচ্ছ তথ্য বা শ্বেতপত্র কেন নেই। কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন—তার নির্ভরযোগ্য তালিকাও প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন।

অভিযোগ উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন কার্যত এড়িয়ে যান জ্ঞানেশ কুমার। বঙ্গ LIVE কলকাতা-র দাবি, প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি স্পষ্ট জবাব না দিয়েই কার্যত সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং পরে কারজাত থেকে পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করেন।
সমালোচকদের মতে, সাংবাদিক বৈঠকে আসল প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া আরও একবার প্রমাণ করে যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। বরং আমজনতাকে হয়রানি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
এসআইআর নিয়ে বিতর্ক যত বাড়ছে, ততই বঙ্গ LIVE কলকাতা-র মতো সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে।