1
1
সুমিত দে,বসিরহাট ও রায়গঞ্জ: ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে উদ্বেগের আবহে একই দিনে উত্তর ২৪ পরগনা ও উত্তর দিনাজপুরে দুই আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের পরিবার দাবি করেছে, ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপই এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ।
বাদুড়িয়ায় মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার পশ্চিম চণ্ডীপুর এলাকায় সোমবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় রিনারানি কুণ্ডু (৫০)-র দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, নতুন ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর থেকেই তিনি মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। তাঁর নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকলেও দুই ছেলে শুভজিৎ কুণ্ডু ও সৌমেন কুণ্ডুর নাম বাতিল হওয়ায় তিনি ভিটেমাটি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন।
সোমবার সকালে দুই ছেলে ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে বাইরে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন রিনারানি দেবী। ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। দরজা ভেঙে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে রুদ্রপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মেহেবুব আলম পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
চোপড়ায় যুবকের আত্মহত্যা
একই দিনে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় উদ্ধার হয় বিক্রম সিংহ (৪১) নামে এক কাঠমিস্ত্রির ঝুলন্ত দেহ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

পরিবারের দাবি, ২৮ তারিখ প্রকাশিত এসআইআর তালিকায় তাঁর নামের পাশে বড় অক্ষরে ‘ডিলিট’ লেখা ছিল। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। স্থানীয় বিএলও-ও স্বীকার করেছেন যে তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘ডিলিট’ চিহ্ন ছিল।
চোপড়া থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হক নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। এলাকার বিধায়ক হামেদুর রহমান এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাতেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সঙ্গে ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সহায়তা প্রয়োজন হলে: মানসিক চাপ বা আত্মহত্যার চিন্তা হলে নিকটস্থ পরিবার, বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পরিষেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয় — প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সম্ভব।