1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত জলপাইগুড়ি:বঙ্গ রাজনীতিতে একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন দলের হয়ে লড়াই করা নতুন কিছু নয়। তবে সম্পর্ক যদি হয় মা-ছেলের মতো, আর সেই দু’জনই যদি ভোটের ময়দানে একে অপরের প্রতিপক্ষ হন—তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে ঠিক এমনই এক বিরল পরিস্থিতি।
এই কেন্দ্রে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে রঞ্জনশীল শর্মা-কে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে, তাঁদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের—রক্তের না হলেও বাস্তবে মা-ছেলের মতোই গভীর।
জানা যায়, ছোটবেলায় বাবাকে হারান রঞ্জন। পরে মায়ের মৃত্যুর পর শিখা চট্টোপাধ্যায়ই তাঁকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। সেই থেকেই তিনি শিখাকে ‘মা’ বলেই ডাকেন। শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, রাজনীতিতেও রঞ্জনের হাতেখড়ি শিখার হাত ধরেই। একসময় দু’জনেই তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে শিখা বিজেপিতে যোগ দেন, আর রঞ্জন থেকে যান তৃণমূলেই। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের কাউন্সিলর এবং জেলা সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন শিখা। সেই নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম দেব-কে পরাজিত করে বিধায়ক হন। এবারে বিজেপি তাঁকেই আবার প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে রঞ্জনশীল শর্মাকে।
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট রেখে কীভাবে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। রঞ্জন জানিয়েছেন, প্রচারে নামার আগে তিনি শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ নেবেন। তাঁর কথায়, “মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই লড়াইয়ে নামব।”
অন্যদিকে, শিখা চট্টোপাধ্যায়ও স্পষ্ট করেছেন—রাজনীতি আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা। এই লড়াই তাঁদের সম্পর্কের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তাই এবারের ভোট শুধুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়—এটি আবেগ, সম্পর্ক এবং মতাদর্শের এক অনন্য মেলবন্ধন। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত জেতে কে—‘মা’ না ‘ছেলে’, নাকি এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে সম্পর্কের মর্যাদা