Popular Posts

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে ‘মা-ছেলের’ ভোটযুদ্ধ আশীর্বাদ নিয়েই প্রচারে নামলেন রঞ্জন

শ্রেয়া সেনগুপ্ত জলপাইগুড়ি:বিধানসভা কেন্দ্রে এবার এক ব্যতিক্রমী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে রাজনীতি। এখানে মুখোমুখি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা এবং বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বাস্তবে তাঁদের সম্পর্ক মা-ছেলের মতোই গভীর—আর সেই সম্পর্কই এই নির্বাচনী লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
সম্পর্ক বনাম রাজনীতি
ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারানোর পর রঞ্জন শীল শর্মা-কে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, রাজনীতিতেও তাঁর হাত ধরেই পথচলা শুরু রঞ্জনের। দীর্ঘদিন দু’জনেই ছিলেন তৃণমূলে।
তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়। টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন শিখা, এবং সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। অন্যদিকে রঞ্জন থেকে যান তৃণমূলেই—বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের কাউন্সিলর এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।


আশীর্বাদ নিয়েই লড়াই
প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়—এই ‘মা-ছেলে’ কীভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন?
সেই কৌতূহলেরই জবাব মিলল বাস্তবে। প্রচারে নামার আগে রঞ্জন শীল শর্মা যান শিখার বাড়িতে, প্রণাম করে নেন আশীর্বাদ। তাঁর কথায়,
“রাজনীতি আলাদা, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কে তিনি আমার মা।”
অন্যদিকে শিখা চট্টোপাধ্যায়-র বার্তাও স্পষ্ট—রাজনৈতিক লড়াই নিজের জায়গায়, কিন্তু সম্পর্ক অটুট। তিনি আশীর্বাদ করে বলেন, “ছেলে যেন মানুষের জন্য ভালো কাজ করে।”
নজরে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি
ব্যক্তিগত আবেগ আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই অনন্য মিশেল এখন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রকে এনে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি কার মুখে ফুটবে—তা জানার অপেক্ষায় এখন সকলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *