1
1
বঙ্গ Live কলকাতা Desk
ডিজিটাল অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে ভারত। করোনা পরবর্তী সময়ে অনলাইন শিক্ষা এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থায় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে দেশ। কিন্তু এই অগ্রগতির মাঝেই সামনে এসেছে এক উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সমস্যা।
ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি দিবসে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অ্যাটলাস–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু স্থূলতা বা ওবেসিটির শিকার। এই পরিসংখ্যানের নিরিখে শিশুদের স্থূলতার ক্ষেত্রে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। অর্থাৎ পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কিশোরদের মধ্যেই বাড়ছে সবচেয়ে বেশি
পরিসংখ্যান বলছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি। এই বয়সের প্রায় ২ কোটি ৬৪ লক্ষ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত।
২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুদের স্থূলতার হার প্রায় ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৫ জন এই সমস্যায় ভুগছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, গত কয়েক বছরে এই বৃদ্ধির হার দ্রুত বেড়েছে।
মেয়েদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়েছে ১২৫ শতাংশ
ছেলেদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ২৮৮ শতাংশ, যা বিশেষজ্ঞদের চিন্তা বাড়িয়েছে
এমনকি ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যেও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লক্ষে পৌঁছতে পারে।
কী কী রোগের ঝুঁকি বাড়ছে
শিশু বয়সেই অতিরিক্ত ওজন নানা গুরুতর শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যেমন—
উচ্চ রক্তচাপ
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া
ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি
হৃদরোগের ঝুঁকি
ফ্যাটি লিভার
দেশের বিভিন্ন স্কুলে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের আকস্মিক অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনাতেও উচ্চ রক্তচাপ ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
কেন বাড়ছে শিশুদের ওজন
চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, শিশুদের মধ্যে স্থূলতার প্রধান কারণ বর্তমান জীবনযাত্রা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হল—
১. খেলাধুলার অভাব:
ডিজিটাল যুগে শিশুদের মাঠে খেলার সময় কমে যাচ্ছে।
২. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম:
টিভি, মোবাইল ও ভিডিও গেমে বেশি সময় কাটানোর ফলে শারীরিক নড়াচড়া কমছে।
৩. জাঙ্ক ফুডের অভ্যাস:
পরিবারের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবেই শিশুদের মধ্যে ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
৪. ঘুম কম হওয়া:
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে খিদে বাড়ে এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
৫. পড়াশোনার চাপ ও প্রতিযোগিতা:
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সমাজে মানসিক চাপও শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলছে।
ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছনোর আগেই দেশের বড় অংশের মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জীবনযাত্রাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ জন হৃদরোগে মারা যান। এর মধ্যে ৫০ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের নিচে, আর প্রায় ২৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরেরও কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্থূলতার প্রবণতা ভবিষ্যতে এই স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানো এখনই অত্যন্ত জরুরি।