1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা:
কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের মতামত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। জ্বালানির দাম থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা বিতর্ক—বিভিন্ন প্রসঙ্গেই সরব হন তিনি।
পাইলটদের প্রশংসা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাইলটরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছেন। তাঁদের জন্যই আমরা নিরাপদে ফিরতে পেরেছি। তাঁরা সত্যিই আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”
জ্বালানির দাম নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ
পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানো নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে দাম বাড়িয়ে রেখে পরে সামান্য কমানো হচ্ছে। এটা অনেকটা হাজার টাকা দাম বাড়িয়ে শাড়িতে ৪০০ টাকা ছাড় দেওয়ার মতো। বাস্তবে এক্সসাইজ ডিউটি কমালে সাধারণ মানুষের উপর কতটা প্রভাব পড়বে, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমি চাই না মানুষ কষ্ট পাক।”
LPG ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
রান্নার গ্যাস প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গ্যাস অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, “মানুষকে তো আগে রান্না করতে হবে। হলদিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস যেন বাংলার বাইরে চলে না যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ ডিউটিতে বাংলায় আসবেন। তাঁদের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন এখানকার মানুষ সমস্যায় না পড়েন, সেটাই দেখতে হবে।”
তিনি আরও জানান, এখনও যেসব পরিবার উনুনে রান্না করেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তা রেশন মারফত দেওয়া হবে।

ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন
ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, Election Commission of India-কে সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেও এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কিন্তু প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকাটাই এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
তিনি দাবি করেন, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদের Suti বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ৫০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনার Basirhat এলাকার একটি বুথেও ৬০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্বচ্ছতা ও ট্রাইব্যুনালের দাবি
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি সাহস থাকে, তাহলে অবিলম্বে তালিকাটি প্রকাশ করা হোক। কার নাম রাখা হয়েছে আর কার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—সব পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
তিনি প্রস্তাব দেন, যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে তাঁদের সাহায্য করতে প্রতিটি জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। সেই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
এই প্রসঙ্গে Bharatiya Janata Party-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। যা হচ্ছে তা হিটলারের শাসনকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিজেপির ‘ভ্যানিশিং ওয়াশিং মেশিন’ মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক পরিবারে একজনের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও বাকি সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা চলছে। বাংলার মানুষ এর জবাব