1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, ঝাড়গ্রাম ২৭ মার্চ, ২০২৬ :
ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পড়িহাটি প্রগতি সংঘ হাইস্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশগুলি নিচে তুলে ধরা হল—
* প্রার্থীদের পরিচয় ও শুভেচ্ছা
মঞ্চে উপস্থিত জেলার চার প্রার্থীকে শ্রদ্ধা জানান তিনি—ঝাড়গ্রাম থেকে মঙ্গল সরেন, গোপীবল্লভপুর থেকে অজিত মাহাতো, নয়াগ্রাম থেকে জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু এবং বিনপুর থেকে বীরবাহা হাঁসদা।
* জনসমাগম নিয়ে মন্তব্য
অভিষেক বলেন, দুপুর থেকেই মাঠে মানুষের ঢল নেমেছে। প্রবল গরম উপেক্ষা করে এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত করতেই তাঁরা এসেছেন।
* এলাকার উন্নয়নের খতিয়ান
তিনি জানান, বিনপুর বিধানসভা এলাকার একাধিক স্কুলে অলচিকি ও বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা চালু হয়েছে। বেলপাহাড়ী গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান সার্জারির আলাদা ইউনিট তৈরি হয়েছে। বিনপুর ও জামবনী ব্লকে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
এছাড়াও খেয়ারীরাতা ও উত্তরাশোল এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণ, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে ৫০০-র বেশি স্ট্রিট লাইট এবং ১,০০০-র বেশি পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে।
* প্রার্থী তুলনার আহ্বান
বিরোধী প্রার্থীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একদিকে এই এলাকার ঘরের মেয়ে বীরবাহা হাঁসদা, অন্যদিকে বিজেপির এমন প্রার্থী যাঁর সঙ্গে বিনপুরের কোনো সম্পর্ক নেই। লোকসভা নির্বাচনে যিনি ১.৫ লক্ষ ভোটে হেরেছিলেন, তাঁকেই আবার প্রার্থী করা হয়েছে।

* বীরবাহা হাঁসদার কাজের প্রশংসা
তিনি বলেন, জেকেপিএন দলের প্রতিষ্ঠাতা নরেন হাঁসদার মেয়ে বীরবাহা হাঁসদা গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করছেন।
* বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ
বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতির জন্য সাধারণ মানুষ চাপে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে মানুষকে সহায়তা দিচ্ছেন, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার সেই সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে।
* ইউসিসি নিয়ে সতর্কবার্তা
তিনি দাবি করেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু হলে তপশিলি জনজাতি সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বিজেপি।
* লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গ
অভিষেক জানান, বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি-জনজাতি পরিবারগুলি ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। আগামী পাঁচ বছরে যাঁরা ১,৭০০ টাকা পাচ্ছেন, তাঁরা মোট ১,০২,০০০ টাকা পাবেন।
* বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বিজেপি শাসিত কোনো রাজ্যে যদি বাংলার মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করতে পারে, তবে তিনি আর তৃণমূলের জন্য ভোট চাইবেন না।

* কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজ, জল জীবন মিশন, রাস্তা নির্মাণ ও আবাস প্রকল্পের টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে রেখেছে। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১০০ দিনের কাজের জন্য একটি টাকাও দেয়নি।
* দিল্লি আন্দোলনের প্রসঙ্গ
দিল্লিতে বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন ও বীরবাহা হাঁসদাকে দিল্লি পুলিশ হেনস্থা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
* জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
অভিষেক বলেন, ২০১১ সালের আগে জঙ্গলমহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সেখানে শান্তি ও উন্নয়ন এসেছে।
* তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতিজ্ঞা
তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ইস্তাহারে ১০টি প্রতিজ্ঞা রয়েছে—
মহিলাদের জন্য আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
প্রত্যেক পরিবারে পরিশ্রুত পানীয় জল
‘দুয়ারে চিকিৎসা’ স্বাস্থ্য শিবির
বার্ধক্য ভাতার দ্রুত মঞ্জুরি
প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে পাকা বাড়ি
* বিনপুরের প্রকল্পের তথ্য
তিনি জানান—
৮৪,৪৯৯ জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন
৩,১৫,৯৮২ জন স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন
২,৮৮,১০৮ জন খাদ্যসাথীর অধীনে রেশন পাচ্ছেন
১২,৬২২ জন বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপকৃত
৫৯,৬০২ জন কৃষকবন্ধু সুবিধা পেয়েছেন
* পরিকাঠামো উন্নয়ন
‘পথশ্রী’ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় ২১৭ কিমি রাস্তা তৈরি বা সংস্কার হয়েছে। বাদলডিহি থেকে কাঁকড়াঝোড় পর্যন্ত ১৭ কিমি রাস্তার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ।
* জ্বালানির দাম নিয়ে আক্রমণ
তিনি বলেন, রান্নার গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা হয়েছে। ভোটের পর দাম আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করেন।
* ভোটের আহ্বান
শেষে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপিকে জবাব দিতে হবে এবং বিনপুরে বীরবাহা হাঁসদাকে জয়ী করতে হবে।