1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, পুরুলিয়া
লোকসংস্কৃতি ও কৃষিকে একসুতোয় গেঁথে পুরুলিয়ার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুশান্ত মাহাতোর সমর্থনে ঝালদার জনসভা থেকে জেলার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন তিনি— চরিদায় আধুনিক মুখোশ কমপ্লেক্স এবং আড়ষা এলাকায় একটি বড় হিমঘর।
বাঘমুন্ডির চরিদা গ্রাম বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ছৌ মুখোশ শিল্পের জন্য। কয়েকশো পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত বিপণন ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর অভাবে অনেক সময় শিল্পীরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য মূল্য পান না। সেই সমস্যার সমাধানেই চরিদায় একটি আধুনিক ‘মুখোশ কমপ্লেক্স’ তৈরির ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন,

“চরিদার শিল্পীরা আমাদের গর্ব। তাঁদের হাতের কাজ বিশ্ববন্দিত। কিন্তু বাজার ও পরিকাঠামোর অভাবে অনেক সময় তাঁরা বঞ্চিত হন। তাই চরিদাতে একটি আধুনিক মুখোশ কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে, যেখানে শিল্পীরা একই ছাতার তলায় কাজ করতে পারবেন এবং তাঁদের তৈরি সামগ্রী সরাসরি প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাবেন।”
এই কমপ্লেক্স তৈরি হলে শিল্পীদের কাজের পরিসর যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিল্পের পাশাপাশি জেলার কৃষকদের স্বার্থেও বড় ঘোষণা করেন অভিষেক। আড়ষা ও আশপাশের এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সরকারি হিমঘর। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, আড়ষা এলাকায় একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর নির্মাণ করা হবে।
এই হিমঘর চালু হলে সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষকদের আর কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হতে হবে না এবং ফড়েদের দাপটও অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন,

“রাজ্যে চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠিত হলেএই প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা যা বলি, তা করে দেখাই।”
লোকশিল্পীদের মর্যাদা ও কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা— এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পুরুলিয়ার উন্নয়নের নতুন দিশা দেখালেন তৃণমূল নেতৃত্ব, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।