1
1
নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর (নারায়ণগড়):
বাংলাকে টার্গেট করলে বাংলা দিল্লিকে টার্গেট করবে, বাংলা কখনও মাথা নত করবে না— এই বার্তাই দিলেন Mamata Banerjee। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বক্তব্য, দিল্লির বিজেপি সরকারের মতো এত বজ্জাত, অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী সরকার তিনি জীবনে দেখেননি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার বিজেপির নেই। বরং প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত Narendra Modi ও Amit Shah-এর বিরুদ্ধে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “যারা দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে, প্রশাসনকেও ভাগ করার চেষ্টা করেছে— তাদেরই আগে জবাবদিহি করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামো— আইএএস, আইপিএস, এমনকি রাজ্যের পুলিশ ও সিভিল সার্ভিসেও বিভাজনের রাজনীতি ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সভামঞ্চ থেকে বাংলার মর্যাদার প্রশ্নও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, “বাংলাকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলা কখনও মাথা নত করবে না। বাংলার নবজাগরণ, বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাস আমাদের গর্ব।”

মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে জৈন সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “জিও অর জিনে দো— এই বার্তাই হওয়া উচিত।” একই সঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “এরা বকধার্মিক। কোনও ধর্মকে ভালবাসে না। দিল্লিতে বস্তি উচ্ছেদ করতে গিয়ে মা কালীর মন্দিরও ভেঙেছে।”
আদিবাসী সমাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। বিরসা মুন্ডার নাম ব্যবহার করে তাঁদের অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নোটবন্দি ও আধার নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মমতার দাবি, নোটবন্দির সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধার কার্ড করতে গিয়ে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর কটাক্ষ, “আগে নোটবন্দির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, এখন ভোটবন্দির জন্য লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে।” বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নেই বলেই তারা নানা চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যদি এত ক্ষমতা থাকে, তবে ভোট কাটছ কেন? অফিসারদের অপমান করছ কেন?” তাঁর হুঁশিয়ারি, তৃণমূলকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।
শেষে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ সব দেখছেন এবং গণতান্ত্রিকভাবেই তার জবাব