1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা
রাজ্যে ভোটের আগে নতুন করে বিতর্ক। মাত্র ৬–৭ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। সোমবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়ম ভেঙে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার ফর্ম জমা নেওয়া হয়েছে।
অভিষেক জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একসঙ্গে সর্বাধিক ৫০টি ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যায়। কিন্তু সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই বস্তা ভর্তি করে হাজার হাজার ফর্ম জমা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও তিনি নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। একইসঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি কোনও গোপন করার বিষয় না থাকে, তাহলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে অভিষেক লেখেন, বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপের একটি সমন্বিত চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য মিলছে যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ আবেদন সন্দেহজনকভাবে জমা পড়ছে। এগুলির অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের বাংলার সঙ্গে কোনও বাস্তব সম্পর্ক নেই—তাঁরা এখানে থাকেন না, কাজও করেন না।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার ফর্ম প্রক্রিয়া করে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানুষের জানার অধিকার আছে তাঁদের ভোট নিয়ে কী হচ্ছে—এটি শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তির সঙ্গেই জড়িত।

অভিষেকের অভিযোগ, বস্তা ভর্তি প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ নিয়ে এসে বিজেপি নেতা অবৈধভাবে CEO দফতরে জমা দিয়েছেন। যদিও দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ৩০ হাজার নয়, প্রায় ১০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “যদি লুকোনোর কিছু না থাকে, তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক।”
এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ১০ দিনে প্রায় ৩৯৫ জন প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করে বাংলার ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছে বিজেপি। তাঁর দাবি, বিহার, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক এনে বাংলায় ভোট দখলের চক্রান্ত চলছে।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে ফর্ম ৬ ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়ে উঠল রাজ্যে।