1
1
সুমিত দে, কলকাতা:ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে আয়োজিত এই আন্দোলনের মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, বাংলার কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে এবং তার বিরুদ্ধে রাজপথ থেকে আদালত—সব জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাবে তৃণমূল।
মঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিষেক বলেন, তাঁর আহ্বানেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আজ রাজপথে নেমেছেন। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় অভিযোগ
অভিষেকের দাবি, নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পরে চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫–৬ লক্ষ নাম উধাও হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩–৬৪ লক্ষ। পাশাপাশি এখনও ৬০ লক্ষ ৭ হাজার ভোটারের নাম ‘Under Adjudication’ অবস্থায় রয়েছে।
তার কথায়,
“সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অথচ SIR ঘোষণার আগেই বিজেপি নেতারা বলছিলেন প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম বাদ পড়বে। এটা কি কাকতালীয়?”
‘৬০ লক্ষ ভোটার যদি বিচারাধীন হয়, তবে মোদীর পদও প্রশ্নের মুখে’
অভিষেক বলেন, যাঁরা আজ ‘Under Adjudication’-এ রয়েছেন, তাঁরাই ভোট দিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই যদি তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট বলেন,
“যতদিন না এই মানুষের ভোটাধিকার ফিরছে, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”
‘বয়কট বিজেপি’র ডাক
বক্তব্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালি সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বদের অপমানের অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য—এসব বাঙালি ভুলবে না।

তিনি বলেন,
“একসময় বলা হয়েছিল ‘No vote to BJP’। আজ আমরা বলছি— ‘বয়কট বিজেপি’।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে চ্যালেঞ্জ
মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ দেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বাংলায় প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন,
“বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে যদি এভাবে প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ
অভিষেকের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার বাংলার ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ও অন্যান্য প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। গত সাত বছরে কেন্দ্র বাংলা থেকে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা কর হিসেবে নিয়েছে, অথচ রাজ্যের বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন নিয়েও প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশন বিজেপির সহযোগী সংস্থার মতো কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, ED, CBI, আয়কর দফতরের পর এবার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিজেপিকে আসন কমানোর হুঁশিয়ারি
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন,
“বিজেপি ভাবছে ৬০ লক্ষ মানুষকে বাদ দিলে জিতে যাবে। কিন্তু আমরা ওদের ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনব, এমনকি ৪০-এর নিচেও নেমে গেলে অবাক হব না।”
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা
শেষে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, মানুষের পাশে থাকতে হবে এবং আতঙ্কে যেন আর কোনও প্রাণহানি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন,
“বিজেপি ১৭২ জনের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমরা নিশ্চিত করব ১৭২টি বুথেও যেন তাদের অস্তিত্ব না থাকে।”