Popular Posts

হার নিশ্চিত বুঝেই ভোট পিছোতে চাইছে বিজেপি: ভোটার তালিকা জটিলতায় তোপ অভিষেকের

সুমিত দে, কলকাতা:
বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল রাজ্যে। ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর আওতায় থাকাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝেই ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে।
শনিবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন কার্যত কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে আসা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা অ্যাডজুডিকেশন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক কেস নিষ্পত্তি করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই দাবি অভিষেকের।
তিনি হিসাব তুলে ধরে বলেন,
প্রায় ৫০০ বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। একজন আধিকারিক দিনে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি কেস নিষ্পত্তি করতে পারলে দৈনিক মোট নিষ্পত্তি হবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কেস। সেই হিসেবে প্রায় ৬০ লক্ষ কেস নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে তাঁর দাবি।
অভিষেকের কথায়, “বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাও মানুষ। তাঁদের হাতে কোনও যাদুকাঠি নেই।”


বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ
সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচন চায় না এবং বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাঁর দাবি, বিজেপি বুঝে গিয়েছে নির্বাচনে তাদের ফল ভালো হবে না বলেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। বিজেপির সভা-মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে অনেক জায়গায় তাদের সমর্থক সংখ্যাও কমে গিয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও অ্যাডজুডিকেশন ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে শাসকদল, যদিও কমিশনের তরফে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *