1
1
সুমিত দে, নয়াদিল্লি:ফের দেশের আকাশে মৃত্যু। ফের প্রশ্নের মুখে ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ল দিল্লিগামী যাত্রীবাহী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। ঘটনাস্থল চাতরা জেলার সিমারিয়া থানা এলাকা। শেষ পাওয়া খবরে নিশ্চিত, উড়ানে থাকা সব ৭ জনেরই মৃত্যু।
প্রশ্ন উঠছে—
টেকঅফের পরেই কীভাবে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি যাত্রীবাহী বিমান?
কেন বারবার মাঝ আকাশেই “হারিয়ে যাচ্ছে” উড়ান?
দায় কার?
সূত্রের খবর, রাঁচি থেকে উড়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওই বিমানটির। প্রথমে অনুমান করা হয় পালামৌ ও লাতেহারের মাঝে নিখোঁজ হয়েছে উড়ানটি। পরে চাতরায় উদ্ধার হয় ধ্বংসাবশেষ। বিমানে ছিলেন দুই পাইলট—বিবেক বিকাশ বিলাগত ও সর্বদীপ সিংহ—সহ মোট সাতজন।
এটাই কি প্রথম?
না।
গত কয়েক বছরে দেশে একের পর এক বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। কখনও সেনা উড়ান, কখনও চার্টার্ড ফ্লাইট, কখনও আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স—প্রতিবারই একই চিত্র:
দুর্ঘটনা, তদন্তের আশ্বাস, তারপর নীরবতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি
নিরাপত্তা নজরদারিতে শিথিলতা
বেসরকারিকরণের চাপ
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমশ ঝুঁকির মুখে।
এত বড় দুর্ঘটনার পরও কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও কঠোর বার্তা বা জবাবদিহির রূপরেখা সামনে আসেনি। শুধু শোকবার্তা কি যথেষ্ট? নাকি মানুষের প্রাণের দায়িত্ব এখানেই শেষ?
দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনের অধীনে থাকা বিমান চলাচল ব্যবস্থা যদি বারবার ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক—
দেশ কি আদৌ নিরাপদ আকাশপথে উড়ছে?
আজ সাতজনের মৃত্যু। কাল সংখ্যা বাড়বে না—এই নিশ্চয়তা দেবে কে?
