1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত | বীরভূম
বীরভূমের রাজনীতির কথা উঠলে এক নাম বারবার সামনে আসে— Anubrata Mondal। রাঙামাটির জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি যেন এক আলাদা অধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন এবং অনুব্রত মণ্ডল—দুই প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে বহু বছর ধরেই। তাঁকে বাদ দিয়ে বীরভূমের রাজনীতি বোঝার চেষ্টা অনেকের কাছেই অসম্পূর্ণ।
এখন রাজ্য জুড়ে ভোটের আবহ। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ—প্রতিটি প্রান্তে জোরকদমে চলছে প্রচার। বীরভূমও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যেই দলের প্রার্থীদের সমর্থনে জেলায় জনসভা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। দুবরাজপুর-খয়রাশোলের সভামঞ্চে নেত্রীর পাশে দাপুটে উপস্থিতি ছিল তাঁর আদরের ‘কেষ্টর’। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বীরভূম জেলাটা কেষ্ট হাতের তালুর মতো চেনে।”
শুক্রবার বিকেল ঠিক ৪টের কিছু আগে বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন অনুব্রত মণ্ডল। নির্ধারিত সময়ের দু’মিনিট আগেই হাজির। দেখা হতেই কুশল বিনিময়ের পরই শুরু রাজনৈতিক কথাবার্তা। আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়ে দিলেন—
“এবার বীরভূমে ১১-তে ১১ হবে। ৪ মে মিলিয়ে নেবেন। টিম বীরভূম মাঠে আছে। খেলা হবে, ভয়ঙ্কর খেলা হবে।”
এই ‘ভয়ঙ্কর খেলা’ কথাতেই যেন আবার ফিরে এল তাঁর চেনা রাজনৈতিক ভাষা। কথার ফাঁকে উঠে এল বীরভূমের সংস্কৃতির কথাও। গুড়-বাতাসা প্রসঙ্গে অনুব্রতর ব্যাখ্যা, “আমাদের এখানে কেউ এলে গুড়-জল দেওয়ার রীতি আছে। আজ আবার রামনবমী, তাই ঢাক বাজছে।”
তিনি আরও জানান, বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছেন। “দিদি বলে দিয়েছেন—বিজেপিকে হারাতে হবে। আমি দিদির কথা মাথায় রেখেই কাজ করছি,” বলেন কেষ্টদা।

তবে মঞ্চের বাইরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আর কী বলেছেন—সে প্রশ্নে রহস্য রেখেই উত্তর, “ওটা টপ সিক্রেট।”
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশেও বার্তা দিলেন অনুব্রত। তাঁর মতে, তরুণদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে, তবে মানুষের সঙ্গে আচরণ হতে হবে নম্র।
“চোখ রাঙিয়ে কথা বললে হবে না। মানুষকে ভালবাসতে হবে। আমি মানুষকে ভালবাসি, তাই মানুষও আমাকে ভালবাসে,” বলেন তিনি।
একইসঙ্গে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বিধায়ক বা সাংসদ হওয়ার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই।
“দল কখনও বলেনি আমাকে প্রার্থী হতে। আমি কেন বলব! দিদি কয়েকবার বলেছিল ঠিকই, কিন্তু আমার ভাল লাগে না। আমি সংগঠনের কাজেই ভাল আছি,” সোজাসাপ্টা জবাব অনুব্রত মণ্ডলের।
কথার মাঝেই মিডিয়ায় তাঁর অতীত নিয়ে নানা মন্তব্যেরও জবাব দেন তিনি। অনুব্রতর দাবি, তাঁর পরিবার মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল—এমন কথা সম্পূর্ণ ভুল।
“আমাদের মুদির দোকান ছিল। ঠাকুরদা চালিয়েছেন, বাবা চালিয়েছেন, আমিও চালিয়েছি। আমাদের বাড়ির দুর্গাপুজোর বয়স প্রায় ২০০ বছর,” জানান তিনি।
এদিকে তখন পার্টি অফিসের বাইরে রামনবমীর মিছিলের প্রস্তুতি চলছে। কথাবার্তা শেষ হতেই দ্রুত সেই মিছিলে যোগ দিতে বেরিয়ে পড়েন অনুব্রত মণ্ডল। কারণ, তাঁর কথায়—মানুষ অপেক্ষা করছে।
একসময় তাঁর অনুপস্থিতিতে বীরভূম অন্যরকম ভোটের সমীকরণ দেখেছে। এবার ফের মাঠে নেমে অনুব্রত মণ্ডলের সামনে নতুন অগ্নিপরীক্ষা। লক্ষ্য একটাই—জেলার সবকটি আসন জিতে ‘১১-তে ১১’করা