1
1
সুমিত দে, ভাঙড়:
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্কুলে ঢুকতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় মোতায়েন থাকবে এই বাহিনী। তবে তার জেরে অন্তত চার মাস পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের।
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার মধ্যেই বাহিনী মোতায়েন
মার্চের শুরুতেই ভাঙড়-সহ রাজ্যের একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ে ঢুকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অথচ এই সময় উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছে। এপ্রিলেও বিভিন্ন পরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও বাহিনীর থাকার বন্দোবস্ত—সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে স্কুলগুলি।

ভাঙড়ে তিন কোম্পানি বাহিনী
রবিবার ভাঙড়ে তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছচ্ছে। ভাঙড় থানার জন্য আসা বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বড়ালি ঘাটের কাছে কুলটি ৪ নম্বর রিফিউজি কলোনি গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার থেকে আপাতত স্কুল বন্ধ রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙড়-২ ব্লকের পোলেরহাট হাইস্কুল ও বামনঘাটা হাইস্কুলেও এক কোম্পানি করে বাহিনী থাকবে। এই দুই স্কুলে মোট পড়ুয়া সংখ্যা প্রায় ৪৬০০। বাহিনীর জন্য ১১টি শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এতগুলি ঘর আটকে থাকলে নিয়মিত ক্লাস চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের।

মিড-ডে মিল ও নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা
শুধু ক্লাসরুম নয়, বেশ কিছু স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্নার জায়গাও আটকে যাচ্ছে। গরমের মধ্যে ছাদে বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় রান্না করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, নির্বাচন উপলক্ষে বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন হলেও শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের তরফে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি হয়নি। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে স্কুল