Popular Posts

মেয়ের ন্যায় পেতে মমতার লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন তিনি প্রয়াত একুশে জুলাই আন্দোলনের লড়াকু মুখ ফেলানী বসাক

শ্রেয়া সেনগুপ্ত, নদীয়া:প্রয়াত হলেন একুশে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লড়াকু মুখ এবং মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র সংগ্রামের সঙ্গী ফেলানী বসাক (৮০)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর নদীয়ার ফুলিয়াপাড়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রায় দু’বছর শয্যাশায়ী থাকার পর থামল তাঁর লড়াইয়ের পথচলা। শেষ জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে।
এক মায়ের লড়াই বদলে দিয়েছিল রাজনীতির গতিপথ
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাল আবহে ফেলানীর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। তাঁর মূক ও বধির কন্যা ধর্ষণের শিকার হন। মেয়ের ন্যায় পেতে অসহায় মা ছুটে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের হাতে তাঁকে রাইটার্স থেকে বের করে দেওয়া হয়—আর সেই অভিযানই রাজ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দেয়।
আন্দোলনের সামনের সারিতে ফেলানী
এই লড়াইয়ের পর থেকেই ফেলানী বসাক হয়ে ওঠেন আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছিল All India Trinamool Congress। সিঙ্গুর আন্দোলন-সহ একাধিক গণআন্দোলনে তাঁকে দেখা গিয়েছে সামনের সারিতে। জেলার নানা প্রান্তে দলীয় কর্মসূচি ও মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় তাঁর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতাতেও একাধিকবার উঠে এসেছে ফুলিয়ার এই সংগ্রামীর নাম। প্রতি বছর ২১শে জুলাই শহীদ সমাবেশে দলীয়ভাবে তাঁকে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু মানসিকতার এক জীবন্ত প্রতীক।


দারিদ্রের মধ্যেই শেষ জীবন
শেষ জীবনটা ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে একটি ছোট ঘরেই কাটিয়েছেন ফেলানী বসাক। ছেলে ও নিজের সামান্য আয়ে কোনওরকমে চলত সংসার। কয়েক বছর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর কন্যার। বর্তমানে একটি কুঁড়েঘরেই বসবাস করতেন তিনি। পরিবারে রয়ে গিয়েছেন এক পুত্র ও দুই নাতনি।
শোকস্তব্ধ নদীয়া
ফেলানী বসাকের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা নদীয়া জেলায়। শান্তিপুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক Braj Kishore Goswami-সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব পরিবারের পাশে দাঁড়ান। মাল্যদান ও দলীয় পতাকা অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শেষকৃত্য ও ক্রিয়াকর্মের দায়িত্বও নেয় দলীয় নেতৃত্ব।
এক সংগ্রামী মায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ আজ নদীয়া—নীরবে বিদায় নিলেন এক ইতিহাসের সাক্ষী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *