Popular Posts

যুদ্ধের আঁচ হেঁশেলে: কলকাতায় আপাতত বন্ধ এলপিজি ডবল সিলিন্ডারের নতুন সংযোগ

শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। কলকাতায় আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এলপিজি ডবল সিলিন্ডারের নতুন সংযোগ। গ্যাস সরবরাহে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, সেই কারণেই তেল সংস্থাগুলির তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তেল সংস্থাগুলির জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী কিছুদিন নতুন করে এলপিজির ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ দেওয়া হবে না। যাঁদের বাড়িতে এখনও একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁরাও আপাতত দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ডিস্ট্রিবিউটারদের এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত সপ্তম দিনে পড়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী দিয়েই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ভারতে আসে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে কেন্দ্র।
যদিও নয়া দিল্লির তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আপাতত দেশে তেলের তেমন কোনও সংকট তৈরি হয়নি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রক এবং তেল সংস্থাগুলি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের মতো এলপিজি মজুত রয়েছে। কিন্তু অপরিশোধিত তেল বা এলএনজির তুলনায় এলপিজির উৎস অনেকটাই সীমিত এবং এর মজুতও তুলনামূলকভাবে কম।
ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আমদানি করা হয়। সেই জ্বালানি বহনকারী অধিকাংশ জাহাজকেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছতে হয়। আপাতত সেই পথই বন্ধ থাকায় জ্বালানি আমদানি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না গ্যাস ডিলাররা। ফলে আপাতত সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে তেল সংস্থাগুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *