1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, কলকাতা: হেঁশেলে হাহাকার। জেলায় জেলায় দেখা দিয়েছে এলপিজি সংকট। বুকিং করার পরও সময়মতো মিলছে না রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। তার উপর এক লাফে ৬০ টাকা বেড়েছে গ্যাসের দাম। ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে করা হয়েছে ন্যূনতম ২৫ দিন। কিন্তু সেই নিয়ম মেনেও নির্দিষ্ট সময়ে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অনেকেই। বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্যাস পরিবহনকারী সংস্থার অফিসে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। কবে সিলিন্ডার ডেলিভারি হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না সংস্থার কর্মীরা।
এর আগে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নিয়ে ইএসএমএ (Essential Services Maintenance Act) জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্যাসের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। ছোট রেস্তোরাঁ থেকে স্ট্রিট ফুডের দোকান— অনেকেই বিকল্প হিসেবে কাঠ বা কয়লা দিয়ে রান্নার কথা ভাবছেন।
শুধু সিলিন্ডার নয়, পাইপলাইনে গ্যাস পান এমন গ্রাহকরাও সমস্যায় পড়েছেন। অর্থাৎ একদিকে বাড়তি দাম, অন্যদিকে পরিষেবা অনিশ্চিত— দু’দিকের চাপেই নাজেহাল মানুষ।

এদিকে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পরিবহণেও। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক রুটে অটোর ভাড়া বেড়েছে। চিংড়িঘাটা রুটে ভাড়া বেড়েছে ৩ টাকা। আবার গড়িয়া–বারুইপুর রুটে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।
অটোচালকদের দাবি, অস্বাভাবিক হারে বুকিং বাড়ায় বহু জায়গায় সার্ভার বিভ্রাটও দেখা দিচ্ছে। তার উপর এলপিজির দাম প্রায় ৫ টাকা বেড়ে এখন লিটার প্রতি দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়ালে খরচ সামলানো সম্ভব নয় বলেই দাবি চালকদের।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টার পর হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ বেড়েছে অটোচালকদের মধ্যেও। অন্যদিকে বাড়তি ভাড়ার চাপে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে প্রতিদিন।