Popular Posts

নওদায় বিজেপি-কংগ্রেসকে তোপ অভিষেকের, ৬০ হাজারের ব্যবধানে জয়ের ডাক

শ্রেয়া সেনগুপ্ত মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের আমতলা হাইস্কুল খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি, কংগ্রেস এবং বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে। রবিবারের সভায় তিনি নওদা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজের সমর্থনে ভোট চেয়ে উন্নয়ন, নাগরিকত্ব ইস্যু এবং কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
সভার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য (২৯ মার্চ, ২০২৬)
আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সভাস্থলে পৌঁছে তিনি বলেন, নওদার তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজের জয় নিশ্চিত করতে আগামী ২২-২৩ দিন সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন ‘গদ্দারদের’ চিহ্নিত করে জেলা থেকে বিতাড়িত করার লড়াই।
বিজেপি এই জেলায় তিনটি ‘এজেন্সি’ মোতায়েন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রথম এজেন্ট অধীর চৌধুরী, দ্বিতীয় হুমায়ুন কবীর এবং তৃতীয়জন নির্বাচন কমিশনের সিইসি জ্ঞানেশ কুমার।
২০২৪ সালের নির্বাচনে নওদার কয়েকটি অঞ্চলে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার ১৪টি অঞ্চলেই তৃণমূলকে এগিয়ে রাখতে হবে।
মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর থেকে তৃণমূলের পক্ষে ২২-০ ফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপিকে সুযোগ দিলে ভোটার তালিকা থেকেও নাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার ইস্যু তুলে ধরে তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন কেন্দ্রে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছে। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আলিনগর সেতু, ১৪ কোটি টাকার রাধানগর ঘাট সেতু, বালি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে লুঙ্গি সেতু, আমতলা বাস টার্মিনাস এবং মার্কেট কমপ্লেক্সসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কেন্দ্রেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন ৬২,৬৭২ জন মহিলা, স্বাস্থ্যসাথীতে উপকৃত ৩ লক্ষের বেশি মানুষ এবং খাদ্যসাথীতে প্রায় ৩.৬৫ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজ, জল জীবন মিশন, গ্রাম সড়ক যোজনা ও আবাসের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি সরকার।
ধর্মের নামে রাজনীতি নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। যারা ধর্মের নামে ভোট চায় তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া।”
বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে মসজিদ ভাঙার পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন কেন এই প্রশ্ন তোলেননি।


দলের ভেতরেও শৃঙ্খলার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ গোপনে বিরোধীদের সমর্থন করলে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রামনবমীর আগে রাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, যাতে বিজেপি অশান্তি ছড়াতে পারে।
তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারের পাঁচটি প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চালু থাকবে, প্রতিটি পরিবারকে পানীয় জল, ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির, বয়স্কদের ভাতা এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে পাকা বাড়ি দেওয়া হবে।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নওদায় পেঁয়াজ চাষিদের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে।
শেষ বক্তব্যে ২৩ এপ্রিল ভোটের দিন তৃণমূলকে বড় জয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবধান যেন ৬০ হাজারের বেশি হয়।
সভা শেষে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুর্শিদাবাদ সফরে আসবেন এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *