1
1
সুমিত দে,বিহার:সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিহারের রাজনীতিতে ফের জোর জল্পনা— বদলাতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar-কে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। আর সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিহারে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপির কোনও নেতাকেই সামনে আনা হতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত সম্ভাব্য রাজ্যসভা প্রার্থীদের তালিকায় নীতীশ কুমারের নাম রয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে দাবি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সহযোগী নেতাকে কার্যত সক্রিয় রাজ্য রাজনীতি থেকে সরিয়ে ‘রাজনৈতিক বাণপ্রস্থে’ পাঠানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
সম্রাট চৌধুরী এগিয়ে?
এই পরিস্থিতিতে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসছে উপমুখ্যমন্ত্রী Samrat Choudhary-র নাম।
সূত্রের খবর, নেতৃত্ব বদল হলে বিজেপি নিজেদের দলের নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
‘দলবদলু’ তকমা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

জনতা দল ইউনাইটেড বা Janata Dal (United)-এর প্রধান নীতীশ কুমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার জোট বদল করেছেন। কখনও এনডিএ, কখনও মহাগঠবন্ধন— ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেই শিবির পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘দলবদলু’ বা ‘পাল্টুরাম’ নামেও পরিচিত।
তবে বিহারের রাজনীতিকেই কেন্দ্র করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার গড়ে উঠেছে। একসময় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কেন্দ্রে মন্ত্রিত্বও সামলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনে লড়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এনডিএ-র জয়ের পর দশমবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন নীতীশ।
মনোনয়ন জমা শীঘ্রই?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য নীতীশ কুমারের মনোনয়নপত্র ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। সম্ভবত ৫ মার্চ মনোনয়ন জমা দিতে পারেন তিনি। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।
বিজেপির ‘দখলদারী রাজনীতি’? তৃণমূলের কটাক্ষ
বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন Kunal Ghosh। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, বিজেপি বরাবরই দখলদারির রাজনীতি করে। কখনও শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রী বদলানো হয়, কখনও নিজের দলের নেতাকেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরানো হয়। উদাহরণ হিসেবে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত
নীতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানো হলে বিহারের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নেতৃত্ব বদলের জল্পনা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।