1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত, নয়া দিল্লি :
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এসআইআর মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলল Supreme Court of India। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কীভাবে নতুন করে নাম সংযোজন হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারপতিরা।
বুধবার শুনানিতে বিচারপতি Justice Joymalya Bagchi জানতে চান, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে কীভাবে ফর্ম ৬ জমা পড়ে নতুন নাম সংযোজন হচ্ছে। উত্তরে Election Commission of India জানায়, ফেব্রুয়ারির পর অনেকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হচ্ছে।
তবে কমিশনের এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বাগচী। তিনি মন্তব্য করেন, “যদি ভোটের আগের দিন কেউ প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলেও কি তাঁর নাম তালিকায় উঠবে? সেটাও তো হতে পারে না।” পাশাপাশি বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী Kalyan Banerjee দাবি করেন, এক জন ব্যক্তি প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন একজনের পক্ষে জমা দেওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট বলেন, নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির পর একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্তই ভোটার তালিকা ধরে নির্বাচন হয়। তার পরে ফর্ম ৬ জমা পড়লেই যে কেউ ভোট দিতে পারবেন, এমনটা হতে পারে না।
এই প্রেক্ষিতে কমিশনকে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে আদালত জানায়, কোনওভাবেই নতুন করে নাম সংযোজন করা যাবে না। শীর্ষ আদালতের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee।
এদিন ট্রাইব্যুনাল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া মানে তাঁদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা। একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনও অবৈধ ব্যক্তি ভোট দিতে না পারেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যে নথি আগে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সামনে পেশ করা হয়নি, ট্রাইব্যুনাল যেন তা গ্রহণ না করে। নথির সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনও নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। এই সংক্রান্ত অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতিদের।
সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালেরই থাকবে, নির্বাচন কমিশনের নয়। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে, যাতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক, আবেদনকারী ও ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।
এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।