1
1
শ্রেয়া সেনগুপ্ত কলকাতা:একযোগে দেশের ৯টি রাজ্যে রাজ্যপাল বদল হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। আচমকাই প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ এবং তাঁর জায়গায় আর. এন. রবির দায়িত্ব নেওয়া ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই একতরফা সিদ্ধান্ত সংবিধানের মূল ভাবনা এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
শুক্রবার একই ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লিখেছেন, রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের মতামত নেওয়া উচিত এবং সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একটি প্যানেল গঠন করা দরকার। পাশাপাশি কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে গঠিত পুঞ্চি কমিশনও জানিয়েছিল, রাজ্যপাল নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন— “সে সব কথা শুনবে কে?”
সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যপাল বদল প্রসঙ্গে সরকারিয়া কমিশনের একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন সুখেন্দু শেখর রায়।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ বাধ্যতামূলক: রাজ্যপাল নিয়োগ বা বদলের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। বোসকে সরানোর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি কোনও আলোচনা হয়েছিল?
৫ বছরের পূর্ণ মেয়াদ: সাধারণত রাজ্যপালকে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অথচ সি ভি আনন্দ বোস প্রায় সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পরই সরে গেলেন।
বিশেষ পরিস্থিতিতেই অপসারণ: বিরল ও অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া মেয়াদের আগে রাজ্যপালকে সরানো উচিত নয়। এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল?
অপসারণের কারণ জানানো: মেয়াদের আগে সরানো হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যপালকে তার কারণ জানানো প্রয়োজন। এখনও পর্যন্ত সেই কারণ সামনে আসেনি।
পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশ নিয়েও প্রশ্ন
পুঞ্চি কমিশনের সুপারিশের প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইচ্ছেমতো অপসারণ নয়: কেন্দ্রীয় সরকার যেন একতরফাভাবে রাজ্যপালকে সরাতে না পারে— এমন সুপারিশ ছিল। প্রয়োজনে রাজ্য বিধানসভায় অভিশংসনের মতো প্রক্রিয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
৫ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করা: রাজ্যপালদের নির্দিষ্ট মেয়াদ রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক কারণে নয়: অপসারণ শুধুমাত্র বাধ্যতামূলক বা জরুরি কারণেই হওয়া উচিত, রাজনৈতিক কারণে নয়।
ব্যাখ্যার সুযোগ: অপসারণের আগে রাজ্যপালকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
সংসদে ব্যাখ্যা: কোনও রাজ্যপাল পদত্যাগ বা অপসারিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে সংসদে তার কারণ ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দেওয়ার সুপারিশ ছিল।
এই সমস্ত সুপারিশের প্রসঙ্গ তুলে সুখেন্দু শেখর রায়ের অভিযোগ, বাস্তবে সেগুলির কোনওটিই মানা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “কেন্দ্র নিজের ইচ্ছেমতোই রাজ্যপাল বদলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”