Popular Posts

নেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, তবু ভোটার নিরাপত্তায় সোমেই বাহিনী মোতায়েন বৈঠক দুর্বলতা প্রকাশ্যে, কটাক্ষ তৃণমূলের

সুমিত দে, কলকাতা:
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের তোড়জোড় শুরু করেছে Election Commission of India। অথচ এখনও রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকাই প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। সেই ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হচ্ছে—এই যুক্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সোমবার রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে মোতায়েন হবে, তা নিয়ে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই এক মার্চের আগেই রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের তালিকা পাঠিয়েছে Ministry of Home Affairs। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পৌঁছনোর কথা।


কমিশনের শেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। হিসেব অনুযায়ী বাহিনী তার পরেই রাজ্যে ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার আগেই বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।
বিশেষ করে এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর আওতায় থাকা ভোটারদের নথি যাচাইয়ের সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সোমবার থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করলেও, কমিশনের প্রশিক্ষণ চলবে সোমবার পর্যন্তই। অর্থাৎ তালিকা প্রকাশের আগে হাতে থাকবে মাত্র চার দিন। এই স্বল্প সময়ে ৪৫ লক্ষেরও বেশি নথি যাচাই আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
এর আগেও একাধিক নির্বাচনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হলেও, তাদের যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যদিও লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাই সেই অভিযোগ নাকচ করেছিলেন। এবার যাতে এমন কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সে কারণেই কমিশন আগে থেকেই সতর্ক।
সোমবার কমিশনের সিইও দফতরে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক বিভাগের কর্তারা। বাহিনী মোতায়েনের কৌশল ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েই হবে মূল আলোচনা।
এদিকে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছে শাসক দল All India Trinamool Congress। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক Kunal Ghosh দাবি করেন,


“এই সিদ্ধান্ত বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাই প্রমাণ করে। একসময় টাকা বন্ধ করা হয়েছিল। তারপর এনআইএ, সিবিআই, ইডি পাঠানো হয়েছে। পরে নানা কমিশন ও কমিটি। তাতেও কাজ হয়নি। এবার ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেটাও ব্যর্থ। তাই এখন দিল্লি থেকে আগেভাগেই ‘লেঠেল বাহিনী’ পাঠানো হচ্ছে। এতে স্পষ্ট—বিজেপি সংগঠন হিসেবে দুর্বল।”
রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝে ভোটের আগে রাজ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *