1
1
সুমিত দে,কলকাতা:দশকের পর দশক ধরে নিজেদের তথাকথিত ‘আদর্শ’ আর ‘নীতি-নৈতিকতার’ ঢাকঢোল পিটিয়ে রাজনীতি করেছে সিপিআই(এম)। নিজেদেরকেই দাবি করেছে নীতির একমাত্র ধারক-বাহক হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মুখোশ আজ পুরোপুরি খসে পড়েছে—বাস্তবতা আজ আর ঢাকবার জায়গায় নেই।
এক সময় যাদের ‘শ্রেণিশত্রু’ বলে চিহ্নিত করা হত, আজ টিকে থাকার তাগিদে তাদের সঙ্গেই সুবিধাজনক জোট। মুখে এক কথা, কাজে আরেক—নীতির বুলি এখন শুধুই অতীতের স্মৃতি। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে আদর্শের লড়াই নয়, এখন লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখা।
স্টুডিওর আলোয় বসে সাম্য, শোষণমুক্ত সমাজের বড় বড় ভাষণ আজও শোনা যায়। অথচ সাধারণ মানুষ যদি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়, তখন সেই মানুষদের নিয়েই ঠাট্টা-তামাশা, কটাক্ষ। প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি সেই মানুষের দল, যারা একদিন শ্রমিক-কৃষকের কথা বলে রাজনীতি করত?
আরও বিস্ময়কর, যাঁরা এক সময় নীতি-আদর্শ নিয়ে সমাজকে জ্ঞান দিতেন, আজ তাঁদের অনেকেই ঠিকঠাক বাংলা বানান পর্যন্ত লিখতে পারেন না—সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই চিত্রই সামনে আসছে। স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীর তকমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ভণ্ডামি এখন প্রকাশ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অহংকার, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা আর অসার আস্ফালনই আজকের এই পতনের মূল কারণ। আদর্শের রাজনীতি ছেড়ে সুবিধাবাদী পথে হাঁটার ফলেই একসময়ের শক্তিশালী দল আজ শূন্যের কোঠায়।
আজ স্পষ্ট—সিপিআই(এম)-এর সংকট শুধু ভোটের নয়, সংকট তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার।