1
1
নিজস্ব প্রতিনিধি,হুগলি: বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্য সরকারের ‘যুব সাথী’ প্রকল্প ঘিরে যখন শাসক–বিরোধী সংঘাত তুঙ্গে, ঠিক তখনই গোঘাটে ধরা পড়ল এক চমকপ্রদ ছবি। যুব সাথী প্রকল্পে নাম তুলতে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করলেন বিজেপির আরামবাগ টাউন মহিলা মোর্চার কনভেনার সুদেষ্ণা অধিকারী মোহান্ত। শুধু তাই নয়—প্রকল্পের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর গলায়।
সুদেষ্ণা অধিকারী বলেন, “ফর্ম ফিল-আপ তো করলামই। প্রকল্প তো অবশ্যই ভাল। আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করিনি, কিন্তু এটা করলাম। টাকাটা যদি তৃণমূল দেয় বলে তারা দাবি করে, বলুক—আমি বেরিয়ে চলে যাব।” তাঁর দাবি, ছেলের জন্যই তিনি দেড় হাজার টাকার বেকার ভাতার ফর্ম জমা দিতে এসেছেন।
তবে এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করেছে তৃণমূল। গোঘাট তৃণমূল ব্লক সভাপতি সৌমেন দিগার বলেন, “তিনি নিজে নিজের নামেই ফর্ম তুলেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং জমা দিয়েছেন। ছেলে কোথায়?”

এদিকে প্রকল্পের পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “সরকারি প্রকল্প তো। বিজেপির লোক কেন নেবে না? পয়সাটা তৃণমূল কংগ্রেসের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমাদের করের টাকাও এর মধ্যে আছে।”
তৃণমূলের তরফে পাল্টা বার্তা—এই প্রকল্প সর্বস্তরের মানুষের জন্য। সৌমেন দিগার বলেন, “এই প্রকল্পই প্রমাণ করে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউকে দল দেখে বঞ্চিত করেন না।”
জলপাইগুড়ি থেকে কাটোয়া—‘বাংলার যুব সাথী’ রেজিস্ট্রেশন শিবিরে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতাদের হাজিরা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই সিপিএমের সহায়তা শিবিরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি প্রকল্প সবার জন্য—এই দাবি থাকলেও, প্রকল্প ঘিরে হুমকি–হুঁশিয়ারির অভিযোগও মাঝেমধ্যেই সামনে আসে।
এই আবহে গোঘাটের ছবিই যেন প্রশ্ন তুলছে—রাজনীতির তর্ক যতই তীব্র হোক, ভোটের আগে যুব সাথী প্রকল্পের আকর্ষণ যে দলমত নির্বিশেষে, সেটাই কি আবার প্রমাণিত হল?