Popular Posts

২১ ফেব্রুয়ারির মঞ্চ থেকে ভাষা-অধিকার রক্ষায় বজ্রকণ্ঠ মুখ্যমন্ত্রীর “আমরা জান দেব, কিন্তু মান দেব না—বাংলাকে অপমান মেনে নেবে না বাংলা”

সুমিত দে,কলকাতা:আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত ‘বঙ্গবিভূষণ’ ও ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালির অধিকার রক্ষায় তীব্র বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬—এই দিনে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলা ও বাঙালির প্রতি কোনও অপমান আর মেনে নেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি ভাষার দিন নয়—এটি মানবতার দিন, সংহতির দিন। যাঁরা ভাষার মর্যাদার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মরণেই এই দিন। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে নির্মিত সৌধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই অনুষ্ঠান প্রতিবছরই বাংলার ভাষা-চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বক্তৃতায় তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরে বলেন, বাংলা ছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা, নবজাগরণ কিংবা সমাজ সংস্কার সম্ভব হত না। সতীদাহ প্রথা রদ, বিধবা বিবাহ প্রবর্তন—সবই বাংলার মাটি থেকেই শুরু। দেশভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে বাংলা অন্যতম—এই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।


বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাষাভিত্তিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল বাংলা বলার কারণে কোথাও কোথাও মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে—এটি অগ্রহণযোগ্য। বাংলায় বহু ভিনরাজ্যের মানুষ কাজ করেন, তাঁদের ভাই-বোনের মতো সম্মান দেওয়া হয়। তাহলে বাঙালিদের অপরাধ কী, যে তাঁদের ভাষা ও পরিচয়কে লক্ষ্য করে আঘাত নামছে?


তিনি আরও বলেন, বাংলা সংবিধানের অষ্টম তফশিলভুক্ত ভাষা—কোনও করুণা বা দয়ায় নয়। বাংলাকে বিদেশি ভাষা বলা কিংবা তার মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা চললে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে। ধ্রুপদী সাহিত্য স্বীকৃতির প্রশ্নেও বাংলার অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষে তাঁর কণ্ঠে ছিল দৃঢ় অঙ্গীকার—
“২১ মানে একটি প্রতিজ্ঞা। আমরা জান দেব, কিন্তু মান দেব না। বাংলা সব সহ্য করতে পারে, কিন্তু মাথা নত করে না। আমরা কেবল দেশের মাটি আর মায়ের কাছে মাথা নত করি।”


ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এদিনের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটাই বার্তা—
বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষায় আপসহীন অবস্থানেই থাকবে রাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *